Monday, January 18, 2016

 কাপাসিয়ায় উৎসব ও লোকউৎসব

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন :

Biggapon Channel-বাংলাদেশের অধিকাংশ উৎসব এবং লোক উৎসব কাপাসিয়ায় পালিত হয়ে থাকে। কাপাসিয়ায় প্রচলিত লোকায়িত উৎসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈশাখী মেলা। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে পুরো বৈশাখ মাস জুড়েই এ মেলার আয়োজন হয়ে থাকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। বিশেষতঃ কাপাসিয়া বাজার, তরগাঁও, রাউৎকোনা, চাঁদপুর (চানপুর), রাওনাট, আড়াল, চালা বাজার, বারিষাব বাজার, সিঙ্গুয়া বাজার, আড়ালিয়া, গিয়াসপুর, আমরাইদ, টোক, কপালেশ্বর, রায়েদ, সিংহস্ত্রী, ত্রিমোহনী, পানবরাইদ কালি বাড়ি, ঘিঘাট, নাশেরা বটতলার মেলাসহ উপজেলার সকল হাট-বাজার এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রতি বছরই মেলা হয়ে থাকে। বৈশাখী মেলাকে কেউ কেউ বৈশাখের মেলা, বৈশাখি মেলা বা বাংলা নববর্ষের মেলা বলে থাকেন। এর আরো অনেক নাম আছে স্থানীয়ভাবে। কাপাসিয়ার হাটে, বাজারে এবং নানান স্থানে দোকানপাটে ব্যবসায়ীরা বাংলা নববর্ষে হালখাতা অনুষ্ঠান করে থাকেন। বাংলা নববর্ষে গ্রামের প্রতিটি ঘরেই তিতা খওয়ার ধুম পড়ে। কোথাও কোথাও পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন হয়ে থাকে। গ্রামের কৃষক পরিবারগুলি পহেলা বৈশাখে নানা ধরণের ভর্তাসহ একটু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে থাকে। বৈশাখী মেলায় শিশু-নারী-পুরুষের ভীড় জমে। মেলায় বিভিন্ন ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি হয়। অনেকেই বৈশাখী মেলা থেকে এ সকল জিনিস কিনে থাকেন। জিলেপি বৈশাথের অপরিহার্য অনুষঙ্গ।
চৈত্র মাসে কাপাসিয়ায় কোথাও কোথাও চৈতালী মেলা বা চৈত্র সংক্রান্তি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বই মেলা, বই উৎসব, পিঠা উৎসব সহ বিভিন্ন প্রকৃতির উৎসব ও লোকউৎসব আয়োজন হয়ে থাকে এই অঞ্চলে। আশঙ্কার কথা এই যে, কাপাসিয়ার কোনো কোনো এলাকায় বড় মাপের উৎসব বা লোকোৎসব চলার সময় জুয়া, হাউজি, মদ, গাঁজা সহ নানা ধরণের অশ্লীলতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলতে দেখা যায়। যা বাঙ্গালির হাজার বছরের এ সংস্কৃতিকে ম্লান করে দিচ্ছে। এ বিষয়ে সবারই সোচ্ছার হওয়া উচিত।
পারিবারিকভাবে পৌষ ও নবান্ন উৎসব পালন করা কাপাসিয়ার দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য। নতুন ধান উঠা উপলক্ষে কৃষকের ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। পৌষ ও নবান্নোৎসবে বিভিন্ন রকমের মিস্টান্ন পিঠাসহ মুখরোচক খাবার রান্না করার ধুম পড়ে। ঢেঁকি, ছিয়াইট, গাইলের সাহায্যে চালের গুড়ি তৈরি করা হয়। এসময় প্রায় বাড়িতেই ঢেঁকি, ছিয়াইট, গাইলের শব্দ পাওয়া যায়। বর্তমানে গুড়ি তৈরিতে এসবের ব্যবহার কমে গেছে। চালের গুড়ি দিয়ে খেজুরের রস, আইড্ডা কলা (বিচি কলা), নারিকেল, গুড়, দুধ মিশিয়ে চুই পিঠাসহ নানা জাতের পিঠা তৈরি করা হয়। পৌষ মাসে চালের গুড়া দিয়ে খেজুরের পিঠা, নারকেল পিঠা, ভাঁপা পিঠা, কলা পিঠা, দুধরাজ পিঠা, তেলের পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, চিতই পিঠা, পুলি পিঠা, মালপোয়া, ঢুফি পিঠা, মেরা পিঠা সহ খৈ-মুড়ি দিয়ে মোয়া বানানো হয়।
বলা হয়ে থাকে, পিঠার এলাকা কাপাসিয়া। এখানে হরেক রকম পিঠার বাহারি উপস্থাপন ও আধিক্য দেখা যায়। মিষ্টি, ঝাল, টকসহ বিভিন্ন স্বাদের পিঠা এই অঞ্চলে তৈরি করতে দেখা যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ভেজিটেবল ঝাল পিঠা, ছাঁচ পিঠা, ছিটকা পিঠা, চুটকি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, চাঁদ পাকন পিঠা, ছিট পিঠা, সুন্দরী পাকন,  সরভাজা,  পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা, পাকান পিঠা, পোয়া পিঠা, পানতোয়া, পুডিং, মালপোয়া,  মেরা পিঠা, মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা,  ক্ষীর কুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা,  রসফুল পিঠা,  জামদানি পিঠা,  হাঁড়ি পিঠা, ঝালপোয়া পিঠা,  ঝুরি পিঠা,  ঝিনুক পিঠা, সূর্যমুখী পিঠা, নকশি পিঠা, নারকেল পিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জেলাফি, তেজপাতা পিঠা, সন্দেশ পিঠা, ফুল ঝুরি পিঠা, ফুল পিঠা, বিবিয়ানা পিঠা, সেমাই পিঠা, চিড়ার মোয়া, কাউনের মোয়া, ঝাল মোয়া, ফিরনি, সেমাই, নারকেল নাড়ু, কালাই পুড়ি, সরল পিঠা প্রভৃতি। বাড়িতে মেহমান এলে নতুন ধানের পিঠা দ্বারা আপ্যায়ন করার রেওয়াজ রয়েছে। নবান্ন উৎসবে ‘নাইয়র’- যাওয়ার প্রথা অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে উপজেলার বাঘুয়া, কুশদী, সালদৈ, শ্যামপুর, নাশেরা, রাওনাট সহ অনেক গ্রামে এখনো নাইয়র যাবার রেওয়াজ বা রসম লক্ষ্য করা যায়।
মেঘমাগা বা মেঘমাঘন কাপাসিয়ার একটি লোক ঐতিহ্য। আজকাল মেঘমাগা তেমন দেখা যায় না। অনাবৃষ্টি ও খরা (খড়া) দেখা দিলে গ্রামের বয়স্ক, যুবক, কিশোর, শিশুরা কৃষকের বাড়ি বাড়ি ঘুরে গায়ে কাদা মেখে উঠানে উঠানে একসাথে, “আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে, ছায়া দেরে তুই আল্লাহ মেঘ দে”- বলে গান গেয়ে মাতম করতো। সিঙ্গা, ভাঙ্গা কুলা, ভাঙ্গা হাড়ি-পাতিল, ঢোল, ঝুড়ি, মুখোশ, বস্তা ইত্যদি নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাত ২/৩টা পর্যন্ত সামান্য পানি নিয়ে কাদা করে মেঘের জন্য প্রার্থনা করতো। এই প্রার্থনাকে স্থানীয়ভাবে মেঘমাগা বা মেঘমাঘন বলা হয়। মেঘমাগার সময় তাদের উপর পানি ঢেলে দেওয়া হতো। মেঘের গান গাওয়ার পর তাদের চাল, ডাল, লবন, পেঁয়াজ ও নানা উপকরণ সরবরাহ করা হতো। পরে মেঘমাগার দল এসব রান্না করে খেয়ে আনন্দ পেতো। সেই মেঘমাগার পরিবর্তে সমপ্রতি এই অঞ্চলে ব্যাঙের বিয়ে নামে একটি আচার শুরু হয়েছে। প্রচণ্ড গরম আর রোদের খরতাপে অতিষ্ট জনজীবনে কাঙ্খিত বৃষ্টির আশায় আয়োজন করা হয় ব্যাঙের বিয়ে। দিনভর নেচে গেয়ে আনন্দ ফূর্তি করে নানান আঞ্চলিক গানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করে ব্যাঙের বিয়ের এই আয়োজন। কেউ কেউ এই আচারকে কুসংস্কার মনে করেন এবং তা বর্জন করে চলেন।
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ঈদ। দেশের অন্যান্য এলাকার মতোই কাপাসিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় এক মাস সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতর (ঈদ-উল-ফিতর) পালন করে। এখানকার লোক সমাজে পুরো রমজান মাসেই প্রতিদিন ইফতারের সময় বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী নিয়ে ইফতার মাহফিলের আয়োজন হয়ে থাকে। প্রতিটি পরিবারেই ইফতারের সময় উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। পূর্বে  গ্রামের বাজার থেকে ফেরা হাটুরেদের ইফতার করানোর জন্য ধর্মপ্রাণ মানুষ মুড়ি, শরবত, পানি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতো। অপরকে ইফতার করিয়ে নিজেরা স্বর্গীয় আনন্দ অনুভব করতো। রাতে সেহরির সময় মানুষকে ‘চোঙ্গা’ ফুঁকিয়ে কিংবা বেল বাজিয়ে মুসল্লিদের সেহরির সময় হয়েছে বলে বলে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা হতো। বর্তমানে কাপাসিয়া অঞ্চলে এদৃশ্য চোখে পড়ে না। আজকাল মসজিদের মাইক থেকে হুইসেল বাজিয়ে কিংবা মাইক দিয়ে মানুষকে ডেকে সেহরির সময়ের খবর জানানো হয়। রোজার (রোযা) শেষে ঈদ উৎসবে মেতে উঠে সবাই।
ঈদুল ফিতরের প্রায় আড়াই মাস পর কুরবানীর ঈদ বা ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়। কাপাসিয়া উপজেলার বেশির ভাগ মুসলিম কুরবানী দিয়ে থাকে। তাছাড়া মুসলিম সমাজে ঈদে মিলাদুন্নবী, মোহররম (মহররম/মহরম/মুহররম), আশুরা, শবে মেরাজ (লাইলাতুল মেরাজ), শবে বরাত(লাইলাতুল বরাত), শবে কদর (লাইলাতুল কদর) উপলক্ষে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। তাছাড়া মুসলিম সমাজে জন্মদিন, আকিকা, খৎনা (সুন্নতে খতনা/খাৎনা), বিবাহ উপলক্ষেও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একসময় এলাকার হাজম(স্থানীয় ভাষায় গুণীল)- তারাই ছেলেদের খাৎনা করতো। বর্তমানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা খৎনা করা হচ্ছে। এর ফলে হাজমদের প্রভাব কমে গেছে এবং তাঁদের পেশারও পরিবর্তন ঘটেছে। গ্রাম এলাকায় খৎনাকে মুসলমানি বলে অভিহিত করা হয়। এ পর্যন্ত  কাপাসিয়া অঞ্চলে কোনো নারী খৎনা হয়নি।
কাপাসিয়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা শারদীয় দূর্গোৎসব অত্যন্ত জাকজমকপূর্ণভাবে পালন করে থাকে। শারদীয় দূর্গোৎসব হলো তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। তাছাড়া দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, কালীপূজা বা শ্যামাপূজা, চড়ক পূজা, কুমারী পূজা, ঘরের পূজা, মন্দিরের পূজা সহ বিভিন্ন পূঁজা বা পূজা, রথযাত্রা, দোলযাত্রা, শিবরাত্রি, দোলপূর্ণিমা, গণেশ চতুর্থী, অন্ন প্রাসন্ন, জন্মাষ্টমী, চৈত্র সংক্রান্তি উৎসবও পালিত হয় কাপাসিয়ায়। পূঁজায় বিভিন্ন ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে। অন্য  ধর্মের লোকজনও এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বারো মাসে তের পার্বন পালন করে থাকে। বিবাহ, জন্ম, মুখেভাত উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন সময় কীর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এসব কীর্তন কয়েকদিন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

অষ্টমী স্নান হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। ব্রহ্মার কৃপা চেয়ে জগতের যাবতীয় সঙ্কীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণ থেকে মুক্তির বাসনায় দূর্গাপুর ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজারের পূর্ব পার্শ্বে ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান করে থাকেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। অষ্টমী স্নানের দিনে হাজারো পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের এই তীর্থস্থানটি। যা ঘিঘাট অষ্টমী স্থান হিসেবে সুখ্যাত। অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে ঘিঘাট বটতলায় বিশাল মেলা বসে।কাপাসিয়া (গাজীপুর), মনোহরদী(নরসিংদী) ও শিবপুর(নরসিংদী) তিন উপজেলার মোহনায় অবস্থিত বটতলার মেলায় বসে দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, বাঁশের বাঁশিওয়ালা, ফেরিওয়ালা,  নানান ধরনের খেলনা, মাটির তৈরি হাঁড়ি, থালা, বদনার দোকানসহ হরেক রকমের দোকানপাট। বিশেষ করে কাঠের তৈরি আসবাবপত্রের জন্য মেলাটি প্রসিদ্ধ।
বাংলাপিডিয়া তথ্য অনুযায়ী কাপাসিয়া উপজেলায় হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বসবাস করে অল্প সংখ্যক বৌদ্ধও। এ উপজেলায় সাঁওতাল, কোচ (রাজবংশী), মান্দি প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এছাড়া কাপাসিয়া, তরগাঁও, ঘিঘাট, ফুলবাড়িয়া, পাবুর, সূর্য্যনরায়পুর, খিরাটি, আমরাইদ, টোকসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে মুচি সম্প্রদায়ের লোকেরা বসবাস করে থাকে। তাদেরও রয়েছে কিছু নিজস্ব উৎসব। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তারা উৎসবগুলো ধুমধামভাবে পালন করতে পারে না। একসময় তাদের বাহারি অনুষ্ঠানে এলাকা সরগরম হয়ে থাকতো। কালের বিবর্তনে হালে কাপাসিয়ায় অনেক  আদিবাসী বা নৃ-তাত্ত্বিক হিন্দু পরিচয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে দেখা যায়।
কাপাসিয়ার পাড়া-মহল্লায় মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়, বিশেষ করে শীতকালে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন হয়ে থাকে। এখানকার সমাজ ব্যবস্থায় উরস শরীফের আমেজও লক্ষণীয়। এক এক মাজার বা দর্গার আদর্শ কিছুটা আলাদা বুঝাতে গিয়ে ‘উরস’ শব্দটাও বিভিন্ন বানান বনে গেছে। ওরছ, ওরস, ওরশ, উরস, উরশ সহ আরো কিছু বানান ও ব্যবহার প্রচলন আছে।
কাপাসিয়ার বিবাহ অনুষ্ঠানে কতিপয় লোকাচার পালিত হয়। যেমন-বিবাহের পূর্বে পানচিনি, গায়ে হলুদ, মেহেদীতোলা, বরণ ডালা, হলুদ রং মাখামাখি ইত্যাদি। বিবাহকালিন সময়ে বরবরণ,পালকী বা গাড়ী সাজানো, বরযাত্রা এবং বিবাহের পরে বধুবরণ, বাসরঘর সাজানো, বৌ-ভাত উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে বিবাহে পালকির প্রচলন নেই বললেই চলে।

Friday, January 8, 2016

Kapasia Upazila Winter Documentary 15-16 কাপাসিয়া উপজেলা।।

শীতকালে কাপাসিয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকা ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করা কিছু ভিডিওচিত্র।।

Tuesday, December 8, 2015

ফকির মজনু শাহ্ সেতু,কাপাসিয়া উপজেলা-গাজীপুর।।

ফকির মজনু শাহ্ সেতু,কাপাসিয়া উপজেলা-গাজীপুর।।
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় এক বিপ্লবী সেনানীর নাম ফকির মজনু শাহ্। আধ্যাত্মিক ও সুফি সাধক ফকির মজনু শাহ্ ছিলেন পাক-ভারতের ইতিহাসখ্যাত ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের মহানায়ক।
১৭৮৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর বগুড়া জেলার কালেশ্বর নামক স্থানে ইংরেজদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ফকির মজনু শাহ্ আহত হন। কিন্তু মজনু শাহ্ আহত হয়েছেন-এ সংবাদ গোপন রাখা হয়। অতঃপর ১৭৮৭ সালে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য বিনা চিকিৎসায় ‘ফকির মজনু শাহ্’ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বৃটিশদের বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি, তখনই তিনি সিংহের মতো গর্জে উঠে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মহাপ্রতিরোধ রচনা করেছিলেন। তার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য তারই পরবর্তী বংশধর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ্ (অবঃ) এর প্রচেষ্টায় গত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ‘ফকির মজনু শাহ্ সেতু’ নামে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফকির মজনু শাহ্ সেতু’ নামে সেতুটি উদ্বোধন করেছিলেন। ফকির মজনু শাহ্ সেতু নামে এ সেতুর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতা মজনু শাহ্ চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।

Sunday, September 20, 2015

Kapasia Pailot High School re-union 2014





কাপাসিয়ার দর্শনীয় একটি স্থান ধাঁধার চর


নদীর মাঝে ধাঁধার চর
বিন্দু বিন্দু বালি জমে হঠাৎ জেগে ওঠা এক চরের
গল্প। ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যাকে মেলানো এই
অদ্ভুত চরের গল্প শোনাচ্ছেন মো. মনির
হোসেন
নদীর প্রতি ঘনিষ্ঠতা ও মায়া বাড়াতেই নদী পরিব্রাজক
দলের নদীর পানে যাত্রা। বলা হয়, বাংলাদেশকে প্রায়
আড়াই প্যাঁচে আবৃত করে আছে ব্রহ্মপুত্র নদ।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম এই নদের
একটি শাখা নদী শীতলক্ষ্যা। এটি গাজীপুর জেলার
শ্রীপুর উপজেলার সাত-আট কিলোমিটার পূর্ব
দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে কাপাসিয়া উপজেলা শহরের মধ্য
দিয়ে কালীগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ
হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদরের ধলেশ্বরী নদীতে মিলিত
হয়েছে। শীতলক্ষ্যার খ্যাতি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানির
জন্য। এখানেই রয়েছে নৌকা আকৃতির এক বিশাল চর,
নাম ধাঁধার চর। অনেকে বলে মাঝের চর। কারণ এ
চরটি লাখপুর, তারাগঞ্জ, রানীগঞ্জ ও চরসিন্দুরের
মাঝখানে অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা নদীর
বুকে জেগে ওঠা এ চরটির আয়তন প্রায় আড়াইশ' একর।
দূর থেকে দেখলে এ
চরটিকে অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতো মনে হয়,
কারও কারও মনে হতে পারে এ যেন
ডুবে যাওয়া টাইটানিকের জেগে ওঠা। ধাঁধার চরের
অবস্থানটাও বেশ ধাঁধাঁ লাগানো। চরের উত্তর-
দক্ষিণে শীতলক্ষ্যা নদী, পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ। দু'
দিকে দুই থানা_ কাপাসিয়া ও শিবপুর। দু'পাশে দুই
জেলা গাজীপুর ও নরসিংদী।
বর্ষা মৌসুমে দুটি নদীই থাকে গর্ভবতী।
জলে টইটম্বুর। শীতকালে এটি হয়ে ওঠে আরও
মনোরম, আরও মনোলোভা। স্থানীয় তারাগঞ্জ,
লাখপুর, রানীগঞ্জ ও চরসিন্দুরের মাঝখানে এ
চরকে দেখলে মনে হয় ভাসমান টাইটানিক গ্রাম। এ
চরটি লম্বায় ৪ কিলোমিটার, চওড়ায় বর্ষায়
আধা কিলোমিটার। শীতকালে আরও বিস্তৃত হয়।
আনুমানিক ২০০ বছর আগে জেগে ওঠা এই চর
স্থানীয়রা কেউ কেউ বলেন মাঝের চর। কারণ
এটি ব্রহ্মপুত্র নদ ও শীতলক্ষ্যা নদীর
সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। একসময় এই চরের নাম-নিশানা ছিল
না। ছিল বহমান নদী। তারপর আস্তে আস্তে বিন্দু বিন্দু
বালুকণা জমতে জমতে বেলেমাটিতে পূর্ণ
হয়ে একসময় যখন চর জেগে ওঠে, তখন স্থানীয়
লোকজন এটি দেখে ধাঁধায় পড়ে যান। সেই
থেকে এর নাম ধাঁধার চর।
এ চরের ঐতিহাসিক গুরুত্বও কম নয়। জেগে ওঠা চরের
মালিকানা নিয়ে ভাওয়ালের রাজা এবং বারভূঁইয়াদের এক
ভূঁইয়া মহেষ উদ্দীনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
শেষে মালিকানা পেয়ে যান ভাওয়ালের রাজা। তারপর
স্থানীয় হিন্দু কৃষকরা ভাওয়ালের
রাজাকে খাজনা দিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। ১৮১৬-১৮১৯
সালে ব্রিটিশরা এর জরিপ করে এবং খাজনা প্রদানের
মাধ্যমে হিন্দু কৃষকদের বৈধ মালিকানা প্রদান করেন। কিন্তু
১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের পর হিন্দুরা চরের
জমি স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে ভারতে পাড়ি জমান।
বর্তমানে পুরো চরের মালিকানা মুসলিম কৃষকদের
হাতে। চরের মাটি খুবই উর্বর। এখানে রোপণ
করলে হয় না, এমন কোনো ফল-ফসল
বাংলাদেশে নেই। একসময় চরে প্রচুর আখ হতো।
এখন সবচেয়ে বেশি আলুর চাষাবাদ হয়। চরের মাটির
তলায় বা মাটির ওপরে যা রোপণ করা হোক না কেন
তা অতিফলনশীল এবং সারবিহীন ও সুস্বাদু। ১৯৬০, ১৯৮৮,
১৯৯৮ সালের বন্যায় এ চরটি তলিয়ে গিয়েছিল। ১৯৬০
সালের বন্যার পর চরে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়।
ফলে মাটির উর্বরাশক্তি আরও বাড়তে থাকে। এসব না-
জানা তথ্য জানালেন স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ
এলাকাবাসী।
বিকেলের চরটি বড়ই মনোরম। তখন চরের
লম্বা গাছগুলো পাতা নেড়ে সন্ধ্যাকে আমন্ত্রণ জানায়।
টকটকে লাল সূর্য শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্রের
গভীরে রাতের জন্য ঘুমাতে যাচ্ছে।
হয়তো গভীর রাতে আকাশ ভেঙে নামবে ধবল
জোছনা। সকালবেলা ঘুম থেকে চরকে নতুন
জামা পরিয়ে দেবেন। উদিত সূর্যের
আলোকে আলোকিত হয়ে উঠবে ধাঁধার চর।
ঝিরঝিরে বাতাস। উড়ন্ত পাখির কলকাকলি। মাঝির আকুল
করা গান। চরের বুক
দিয়ে হাঁটলে কল্পনা করা যাবে না এটি একটি চর, যার
দু'পাশে রাক্ষসী দুই নদী। মনে হবে মাসি-পিসির ঘুম
পাড়ানো শান্ত-সি্নগ্ধ একটি গ্রাম।
তবে চরকে নিয়ে স্থানীয়রা খুবই উচ্ছ্বসিত। শীত
এবং বর্ষা মৌসুম ছাড়াও ঈদে চরে বিপুল লোক সমাগম
ঘটে। আবার কেউ কেউ বন্ধু-বান্ধবের
জন্মবার্ষিকীও এখানে পালন করেন। ধাঁধার চর
দেখতে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা দূরদূরান্ত থেকে। এই
চরটি যদি পর্যটন করপোরেশনের আওতায় আনা হয়,
তাহলে পর্যটকরা এটি দেখে মুগ্ধ হবেন। আর
সরকারের তহবিলে জমা পড়বে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
সত্যিকার অর্থেই এটি দেখার মতো একটি জায়গা।
তখন ফাল্গুন মাস তৃপ্তির জন্য
এবং একঘেয়েমি জীবনে কিছুটা পরিবর্তনের জন্য
বেড়াতে যেতে পারেন কাপাসিয়ার শীতলক্ষ্যার
নদীর বুকে জেগে ওঠা এই চরে। প্রকৃতির এক
অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থান। অপরূপ ও অনাবিল এ
সৌন্দর্য কখনও বর্ণনা করা যায় না। এ সৌন্দর্য
অবলোকন করলে মনে হয় সমুদ্রের ঢেউয়ের
মতো মনের সব দুঃখ-যন্ত্রণা দূর করে দেয়। আর এই
অপরূপ সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করে রাখার মজাই
আলাদা। এখানকার নৌকা দিয়ে চরের চারপাশ ভ্রমণ,
চরে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে পেয়ারা বাগান, কলাবাগান,
সারি সারি তালগাছ, জামগাছ, কুল বাগান ও নানা প্রজাতির অসংখ্য
ঔষধিগাছ দেখতে পাবেন। পাশেই
নদীতে থৈ থৈ জলরাশি। উপরে দিগন্তবিস্তৃত
খোলা আকাশ। মাছরাঙা পাখির হুটহাট জলচুম্বন, পানকৌড়ির
লুকোচুরি। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখতে পাবেন
ঘোমটা দেওয়া শুশুক। জলের
সাদা ফেনা থেকে আছাড় খাচ্ছে প্রায় আড়াইশ' একর
জমি নিয়ে গভীর জলের বুকে মাথা উঁচু
করে দাঁড়িয়ে থাকা ধাঁধার চরের বুক। চরটির পূর্ব
দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বটতলায় আছে ঐতিহাসিক
ঘাঘাট। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন অষ্টমী তিথিতে এ
ঘাটে পুণ্যস্নান করেন। এটি চলে আসছে সেই ভাওয়াল
রাজার আমল থেকে এবং তা এখনও চলছে। এ
চরটি শ্যুটিং স্পট হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছে বহুবার।
শাবনাজ-নাঈম অভিনীত বিষের বাঁশি চলচ্চিত্রটির অধিকাংশ
দৃশ্য এখানেই ধারণ করা হয়। এ চরটির প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য নদী পরিব্রাজক দলকে মুগ্ধ করেছে।
আশা করি, আপনাকেও মুগ্ধ করবে।
ছবি : লেখক
প্রয়োজনীয় তথ্য
ঢাকার গুলিস্তান বা ফার্মগেট থেকে কাপাসিয়া আসবেন।
সময় লাগবে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। ভাড়া লাগবে মাত্র
১০০-১৭০ টাকা। এখান থেকে সোজা রানীগঞ্জ
চলে এলেই দেখা যাবে দুই নদীর
বুকে ভাসছে অদ্ভুত ধাঁধা লাগানো একটি চর। এরই নাম
ধাঁধার চর।

Thursday, September 17, 2015

হাতির চাদাবাজি

সার্কাসে আগে হাতির খেলা দেখা যেত এখনো দেখা যায় তবে আগের তুলনায় কম। গাজীপুর রথ মেলায় প্রতি বছরি হাতির ফুটবল খেলা সহ বিভিন্ন কিছু দেখা যায়।গ্রাম অঞ্চলে প্রায়ই হাতি দেখা যায় তারা দোকানপাট ,গাড়ী,বাড়ী থেকে চাদাবাজি করে থাকে ।হাতির উপরে একজন ব্যক্তি বসে থাকেন যার সম্মতিতে হাতি টাকা গ্রহন করে থাকে উনার অসম্মতিতে হাতির চেচামেচি শুরু হয়ে যায় ।কোন কারনে ব্যক্তির সাথে কারো গোলযোগ বেধে গেলে হাতির মাধ্যমে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থের শিকার ও হয়ে থাকেন। আমার একটি অভিজ্ঞতা রয়েছে ১০ টাকা চাওয়ায় এক ব্যাক্তি দিতে অসম্মতি জানানোর কারনে হাতি একটি বিশাল ধান সিদ্ধ করার পাতিল নিয়ে হাতির পা দিয়ে ফুটবল খেলার মত করে কিক দিয়ে দেয়ালে লাগিয়ে নষ্ট করে দেয়। এরকম অনেক স্মৃতি বা ঘটনা আপনাদের হয়তোবা রয়েছে নিশ্চয়ই
ছবিঃইকবাল হোসাইন
 

Tuesday, September 8, 2015

পাহারার জন্য কমিউনিটি পুলিশদের ভল্লম ও লাঠি প্রদান

Saturday, September 5, 2015 || Time : 10:22:31 PM
নুরুল আমীন সিকদার,গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া-কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা ঐতিহ্যবাহী তারাগঞ্জ বাজার হাসপাতাল চত্বরে ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে দুর্গাপুর ও মুক্তারপুর ইউনিয়নের জনগণ ও কমিউনিটি পুলিশের উদ্যোগে মাদক দ্রব্য রোধ, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, গণ সচেতনতা সৃস্টির লক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরার সভাপতিত্বে ও কাপাসিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আহসান উল্লাহর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ পি পি এম (বার)। বিশেষ অতিথি ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক এমপি মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাড. রেজাউর রহমান লস্কর মিঠু, পুলিশ সার্কেল (কালিগঞ্জ) সালেহ্ উদ্দিন আহমদ, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান, কাপাসিয়া থানার ওসি (তদন্ত) আবুল কাসেম পি পি এম।
 

অন্যাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন
  কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আজগর রশিদ খান, তারাগঞ্জ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মোঃ বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ, কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান প্রধান, দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইউনুছ আলী মোল্লা, মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইমলাম তোরন, কাপাসিয়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মাহবুবউদ্দিন সেলিম, কালীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম আলমগীর, তারাগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি  শামসুল আলম ভুঁইয়া প্রমুখ।

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ তার বক্তৃতায় বলেন, গাজীপুরের দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী
  স্থান তারাগঞ্জ। এ এলাকার জনগন সচেতন না হলে চুরি ডাকাতি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। 

সমাজের যারা চুরি ডাকাতির সাথে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে। প্রয়োজনে তাদের আইনের কাছে সোর্পদ করতে হবে। এদের কম বেশী সবাই চিনে। কে কি করছেন এলাকার মানুষ তা জানে। এলাকার লোকের সহযোগিতা ও সঠিক তথ্য পেলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা সহজ হবে। এলাকার লোকজনের সহযোগিতা ছাড়া অন্য এলাকার
  লোক এসে এখানে চুরি ডাকাতি বা যে কোন ধরনের অপকর্ম করতে সাহস পাবে না। তারাগঞ্জ অ ল একটি শিক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী এলাকা । বিগত ৪০ বছর এ এলাকায় চুরি ডাকাতি বন্ধ থাকলেও র্দীঘ দিনের অর্জনকে ম্লান করে দিতে নতুন করে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের রিরুদ্ধে আপনারা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন। তিনি আরো বলেন, হয় পুলিশ থাকবে, নয়তো সন্ত্রাসীরা থাকবে।

গাজীপুরে কোন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, মাস্তান, চোর, ডাকাতদের স্থান নেই। থানার টাউট- বাটপারদের আগে ধরতে হবে। তাদের নিমূর্ল করাই পুলিশের কাজ। মাদকের ফলে যুব সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। আপনারা জানেন এলাকায় কারা মাদক সেবন করে, মাদক বিক্রি করে, মাদকের সাথে জড়িত। তিনি বলেন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করছি। আমি জানি অনেক পুলিশ অপরাধীর সাথে জড়িত। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। যারা চাকুরি করে না, লেখাপড়া করে না, দিনের বেলায় ঘুমায়, তারাই এলাকায় মাদক সেবন করে ও সন্ত্রাস করে। তাদের তালিকা তৈরী করে গোপনে পুলিশের কাছে দেয়ার জন্য এলাকার জনগনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার
  হারুন অর রশিদ রাত্রিকালীন পাহারার জন্য এলাকার কমিউনিটি পুলিশের হাতে পোষাক ও দেশীয় অস্ত্র (ভল্লম) ও লাঠি প্রদান করেন।

সমাবেশে কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বাজার ব্যবসায়ী, কমিউনিটি পুলিশ ও শিক্ষক সমাজসেবক সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি


Sunday, September 6, 2015

Hotel_Niribili_Tok_Kapasiaকাপাসিয়ার নিরিবিলি হোটেলে ৭০ প্রকার খাবার ও এক তোতা মিয়ার কাহিনী !



গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের টোক নয়ন বাজারে টোক বাজারের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিখ্যাত নিরিবিলি হোটেল। গাজীপুরের কাপাসিয়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া আর ময়মনসিংহের গফরগাঁও এর মিলন স্থানে এই টোক বাজার। বিখ্যাত হবার অন্যতম কারন এটি। আর সবচেয়ে বড় কারন তোতা মিয়ার নিরিবিলি হোটেলের ৭০ ধরনের ভাজি ভর্তা।
আট ভাইয়ের সংসারে তোতামিয়ার পঞ্চম আর জন্ম এই টোক নয়ন এলাকাতেই। প্রায় ২০ বছর আগে কক্সবাজের এক হোটেলে বয় হিসেবে কাজ শুরু করেন, সেখান থেকে চট্টগ্রামের একটি হোটেলে দীর্ঘদিন বাবুর্চি হিসেবে কাজ করেন। রান্নার হাত ভালো থাকায় চট্টগ্রামের ওই হোটেলের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। সাথে হোটেলের বিক্রিও বেড়ে যায়। তোতামিয়ার রান্নার খ্যাতি এই টোকের লোকজনের কানেও পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে তারা তোতা মিয়াকে অনুরোধ করেন, টোক নয়ন বাজারে একটি খাবারের হোটেল দেওয়ার জন্য।

সে অনুরোধে সাড়া দিয়ে সাত বছর আগে তোতা মিয়া টোক নয়ন বাজারে নিরিবিলি পরিবেশে চালু করেন নিরিবিলি হোটেলনামের এই হোটেলটি। তোতা মিয়া, তার ছেলে মিলে চালান এটি। সব রান্নার তত্বাবধানে থাকেন তার স্ত্রী সালেহা বেগম। তিনি ও তার স্ত্রী নিজে বাড়িতে রান্না করে হোটেলে নিয়ে আসেন। প্রতিদিন সব মিলিয়ে মোট ৭০ টি আইটেম তৈরী করা হয়। সকাল ৮টা থেকে একটানা রাত ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে তোতা মিয়ার হোটেল।
তোতা মিয়ার নিরিবিলি হোটেলে আসতে হলে ঢাকার গুলিস্তান (ফুলবাড়িয়া) থেকে ঢাকা পরিবহন, প্রভাতী বনশ্রী পরিবহন, ঢাকার মহাখালী থেকে ভাওয়াল পরিবহন, জলসিড়ি পরিবহন, সম্রাট পরিবহন, এগারসিন্দুর পরিবহন, অনন্যা পরিবহন, বিআরটিসির গাড়ি, অনন্যা ক্লাসিক পরিবহন, বন্যা পরিবহন, উজান ভাটি পরিবহনের গাড়ি দিয়ে কাপাসিয়া হয়ে টোক নয়ন বাজারে যেতে হবে। এছাড়া গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে সরাসরি রাজদূত বা পথের সাথী পরিবহনের গাড়ি দিয়ে টোক নয়ন বাজারে যাওয়া যায়। মহাখালি থেকে টোক বাজারের ভাড়া পড়বে ১১০-১৩০ টাকার মধ্যে।পথের ক্লান্তি অনেকটাই দূর হলো যখন গাজীপুর ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্ক পাড় হয়ে যখন সবুজ রাস্তা ধরে বাস ছুটে চলল। রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টমেন্ট পাড় হবার পর দুইপাশে শুধুই সবুজ শালবন। মহাখালি থেকে জলসিড়িঁ পরিবহনে টোকবাজার পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমাদের প্রায় ৪ ঘন্টা সময় লেগে গেলো। টোক বাজার নেমে বামে ২০০ গজ দুরেই নিরিবিলি পরিবেশে দেখা মিললো হোটেল নিরিবিলির।

হাত মুখ ধুঁয়ে রিতিমতো ঝাপিয়ে পড়লাম খাওয়ার জন্য। খাবার মান আর স্বাদ নিয়ে শুধু একটাই কথা মনে হলো এতোও অমৃত। সবকিছুই চেখে দেখার চেষ্টা করলাম, রেখে দেবার মতো কোন আইটেমই চোখে পড়লো না। মনে রাখার মতো কিছু আইটেম,
মাংশঃ হাসের মাংশ, মুরগীর মাংশ, কবুতরের মাংশ, খাশির মাংশ
মাছ: শোল মাছ, রুই মাছ, চিংড়ি মাছ, বাতাসী মাছ, বাইন মাছ, ইলিশ মাছ, গুড়া মাছ, শুটকি মাছ
শাক: লাল শাক, পুই শাক, সর্ষে শাক, মুলা শাক, পাট শাক
ভর্তা: আলু ভর্তা, সর্ষে ভর্তা, কালো জিরা ভর্তা, শুটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা, ডিম ভর্তা,
আচার: বড়ই আচার, জলপাই আচার, মিক্সড আচার,
ডাল: মাসকালাই, মশুর ডাল, মুগ ডাল,
সবজি: ১২ রকমের মিক্সড সবজি, ঝিংগা, চিচিংগা, পটল, আলুসীম, করলা।
ভড়পেট ভাত খেয়ে চোখে পড়লো হোটেলের সামনের ছোট চায়ের 

দোকান। র-চার অর্ডার হলো, চোখে পড়লো পানের উপরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো তার পান ও তোতামিয়ার হোটেল থেকে কম যায় না। ৪০ আইটেমের বেশি জিনিসের পান তৈরি হয়। লোভ সামলাতে না পেরে সেই বিখ্যাত সেই শাহী পানের ও অর্ডার দেওয়া হলো। আইটেম আর বানানো দেখে ২০ টাকা মুল্যের পান হিসেবে খুব কমই মনে হলো। পান খাবার পরে মনে হলো আবার যদি আসি এই টোক বাজারে, এই পান না খেয়ে ফিরবো না।


দুপুরের খাওয়া শেষে আরাম করে একটু ঝিমুনি দিতে খুব মন চাইছিলো। নতুন যায়গা গিয়ে হাট পা গুটিয়ে বসে থাকার মতো আসলে আমরা না। কি আছে আশে পাশে, একটু খোঁজ নিয়ে জানা গেলো আমাদের পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ আর তার পাশেই ঈসা খাঁর বিখ্যাত দুর্গ এগারসিন্দু আর ইতিহাসের বিখ্যাত ঈশা খাঁ-মানসিংহের যুদ্ধ। এই যুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস থেকে যা জানা যায়,
১৫৯৬ সালে বার ভূঁইয়াদের অন্যতম ঈসা খাঁর সঙ্গে মোগল সেনাপতি রাজা মানসিংহের দ্বন্দ্ব যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধ হয় ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গমস্থলে বর্তমান ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার সর্ব দক্ষিণ প্রান্তের টাঙ্গার গ্রামে।
সে সময় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে ছিল রাজা মানসিংহের রাজধানী টোক নগরী। এটির অবস্থান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার উত্তর-পূর্বাংশে। রাজা মানসিংহ ১৫৯৫ সালে রাজস্থান থেকে তার রাজধানী টোক নগরীতে সরিয়ে আনেন। ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যার সঙ্গমস্থলে ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীরে ছিল টাঙ্গাব গ্রাম ও টোক নগর। ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে ছিল ঈসা খাঁর বিখ্যাত দুর্গ এগারসিন্দু।
ইতিহাস মতে, ঈসা খাঁর অনুপস্থিতিতে মানসিংহ এগারসিন্দু আক্রমণ করেন। সংবাদ পেয়ে দুর্গ রক্ষায় ছুটে আসেন। কিন্তু তার সৈন্যরা এতোই ক্লান্ত ছিল যে, তারা যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে ঈসা খাঁ মানসিংহকে দ্বন্দ্ব যুদ্ধের আহ্বান করেন। মানসিংহ এ প্রস্তাবে রাজি হন। যুদ্ধে এক পর্যায়ে মানসিংহের তরবারি ভেঙে গেলে ঈসা খাঁ তাকে আঘাত না করে নিজের তরবারি মানসিংহকে দেন কিন্তু মানসিংহ তরবারি না নিয়ে ঘোড়া থেকে নেমে আসেন। ঈসা খাঁ তখন মানসিংহকে মল্লযুদ্ধে আহ্বান করেন। কিন্তু মানসিংহ তা গ্রহণ না করে ঈসা খাঁকে আলিঙ্গন করেন। তার সাহস ও মহানুভবতায় মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। মানসিংহ ঈসা খাঁকে নিয়ে সম্রাট আকবরের দরবারে গেলে তিনি ঈসা খাঁকে ২২ পরগনার শাসক নিয়োগ করেন ও তাকে মসনদ-ই আলা উপাধিতে ভূষিত করে স্বদেশে ফেরত পাঠান।
তথ্য ও ছবিঃ Somewhereinblog

Thursday, September 3, 2015

Dakshin gaon Maa o shishu shastho kendro-(দক্ষিন গাঁও মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র)


Dakshin gaon Maa o shishu shastho kendro-(দক্ষিন গাঁও মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র)


কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও কুড়ের পাড় 

সংলগ্ন চৌরাস্তার পাশে মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অবস্থিত।এখানে 

একজন এম বিবি এস ডাক্তার নিয়মিত বসেন। বিশাল দোতলা ভবনে

 রয়েছে অসংখ্য কক্ষ। সেই তুলনায় কর্মকর্মকর্তা বা সেবা দানের

 লোকজন নাই।তবে সরকারের এই বিরাট রিসোর্স টিকে কাজে

 লাগালে উপকৃত হতো স্থানীয় মানুষ