Sunday, April 17, 2016

কাপাসিয়ার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আবুল হাসান -Dr. Mohammad Abul Hasan

ডক্টর মোহাম্মদ আবুল হাসান সাহেবের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
১/ ডক্টর মোহাম্মদ আবুল হাসান
জন্মঃ ২৩ শে অক্টোবর, ১৯৪৬ বৃহস্পতিবার সময় আসর (প্রকৃত তারিখ)
১লা জানুয়ারি ১৯৪৯(এস এস সি সার্টিফিকেট অনুযায়ী)
গ্রামঃ খিরাটি, ডাকঘরঃ খিরাটি, ইউনিয়নঃ ঘাগটিয়া, উপজেলাঃ কাপাসিয়া, জেলাঃগাজীপুর
পিতাঃ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রশিদ(মরহুম)
মাতাঃ আলহাজ্বা হালিমা খাতুন(মরহুমা)
২/ ভাই-বোন পাঁচ ভাই ৩ বোনের মাঝে দ্বিতীয়।
বড় ভাইঃ মাওলানা আবুল কাশেম মোঃমুখলেছুর রহমান বিএ অনার্স ,এম এ (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক)
ছোট ভাইঃ-
২.১/ হাফেজ আবু ইউসুফ মোঃ নোমান(ধর্মীয় শিক্ষক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
২.২/ আবু তৈয়ব মোঃ আব্দুল্লাহ(মোহতামীম,জামিয়া রশীদিয়া আশরাফিয়া, খিরাটি)
২.৩/ হাফেজ আবু আহম্মদ মোঃ রেজাউর রহমান(কুরআন শিক্ষক, নারীশিক্ষা কেন্দ্র)

৩/ সন্তানাদিঃ
হাফেজ মুহাম্মদ আরশাদুল হাসান শামীম, বি.এ অনার্স ১ম শ্রেনীতে প্রথম, গোল্ডমেডেলিষ্ট; এমএ ১ম শ্রেনীতে প্রথম, প্রভাষক, আরবি বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
আশরাফুল হাসান নাসিম, বিএ অনার্স (১ম শ্রেনী); বর্তমানে কানাডায় উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান নাঈম,বিএসসি অনার্স ১ম শ্রেনীতে প্রথম, গোল্ডমেডেলিষ্ট, প্রভাষক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৪/ শিক্ষা জীবনঃ
প্রাথমিক শিক্ষাঃ খিরাটি আব্দুল কুদ্দুস পন্ডিত সাহেবের বাড়ীর প্রাথমিক বিদ্যালয়(প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল নিউস্কিম মাদ্রাসা)
মাধ্যমিক শিক্ষাঃ মনোহরদী হাই স্কুল, মনোহরদী, এসএসসি(মানবিক)১৯৬৪
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাঃ গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ ১৯৬৮।
স্নাতক শিক্ষাঃ গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ, বিএসসি ১৯৬৮
জীববিজ্ঞান গ্রুপে ১ম এবং সম্মিলিত মেধা তালিকায় সপ্তম
স্নাতকোত্তর শিক্ষাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র
এমএসসি প্রিলিমিনারিঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম শ্রেনীতে প্রথম ১৯৬৯
এমএসসি ফাইনালঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান১৯৭০, প্রথম শ্রেনিতে প্রথম (ফল প্রকাশ ১৯৭১)
পিএইচডিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯০, প্লান্ট ট্যাক্সোনমি
সামার সায়েন্স ইনষ্টিটিউট ট্রেনিংঃ ১ম শ্রেনীতে ১ম (১৯৭৪)

৫/ চাকরিঃ প্রভাষক হিসেবে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে (ঢা.বি) যোগদান ১১ই জানুয়ারি ১৯৭৩, পর্যায়ক্রমে সহকারি অধ্যাপক (১৯৭৯) সহযোগী অধ্যাপক (১৯৯০) এবং অধ্যাপক পদে উন্নীত(১৯৯৩)।১৯৯৭ থেকে অধ্যাপক সিলেকশন গ্রেড।

৬/ আগ্রহঃ শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং বই লেখা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষনার মাধ্যমে জ্ঞানসৃষ্টি এবং আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য উন্মোচন।

৭/ প্রকাশনাঃ প্রকাশিত গবেষনা প্রবন্ধঃপ্রায় ১০০টি


৮/ প্রকাশিত বইঃ
প্রথম পান্ডুলিপি ছিল (১৯৬৬) একটি নাটকের যা রেডিও পাকিস্থান থেকে প্রচারের উদ্দেশ্যে লিখিত।নাকটটি প্রচারের জন্য শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচিত হয়েছিল। শর্ত ছিল নাকটটি আধা ঘন্টার প্রচারের উপযোগী করে দিতে হবে। শর্ত পালন করা হয়নি নাকটটি প্রচারও করা হয় নাই। প্রথম প্রকাশিত বই হল নানা রঙ্গ – নামের একটি হাসির গল্প।
শিশুদের জন্যঃ বর্ণমালার ছড়া, ছড়ার মেলা, সোনামনিদের আরবী ও ইসলাম শিক্ষা ১ম ও ২য় ভাগ পর্যন্ত।
কিশোরদের জন্যঃ গাছপালার কথা
সাধারণের জন্যঃ
১) মধু ও স্বাস্থ্যঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
২) বাংলাদেশ ভেষজ উদ্ভিদঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
৩) বাংলাদেশের লোকজ বনৌষধিঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৪) দেশীয় শাক সবজির পুষ্টি উপাদান, ভেষজগুন ও পথ্য বিচারঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
৫) গাছ গাছড়া দিয়ে চিকিৎসাঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৬) আমাদের ভেষজ সম্পদঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৭) বাংলাদেশের বিষাক্ত উদ্ভিদঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৮) সাধারন রোগব্যধির হার্বাল চিকিৎসাঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
৯) মহান আল্লাহতায়ালার পবিত্র বানীঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা।

৯/ হোমিওপ্যাথিঃ
১) সহজ প্যাথলজি শিক্ষাঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
২) হোমিও ভেষজ বিজ্ঞানঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৩) অর্গানন অব মেডিসিনঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা

১০/ লেখা ও সম্পাদনাঃ
১)প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ(পরিচিতি, চাষ ও ব্যবহার বিধি)
   ১ম খন্ডঃ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
২) প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ(পরিচিতি, চাষ ও ব্যবহার বিধি)
   ২য় খন্ডঃ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
৩) প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ(পরিচিতি, চাষ ও ব্যবহার বিধি)
   ৩য় খন্ড (যন্ত্রস্থ): স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার


১১/ সম্পাদনা/সদস্য সম্পাদনা পরিষদঃ
1. Encyclopedia of Flora and fauna  Of Bangladesh : Asiatic Society of Bangladesh (28 Volumes)
বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রানী জ্ঞানকোষঃ ২৮ খন্ডঃ এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ
এঞ্জিওস্পার্ম ট্যাক্সোনমিঃ স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর  শ্রেণীর জন্য
জিমনোস্পার্ম, প্যালিওবোটানি, ইকোনমিক বোটানি এবং ইথনোবোটিকঃস্নাতক শ্রেনীর জন্য।
এন্ট্রি বা অধ্যায় লেখকঃ
১) বাংলাপিডিয়াঃ এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ
২) বঙ্গভবনের শতবর্ষ(১৯০৫-২০০৫): প্রেস উইং বঙ্গভবন
৩) Hundred years of Bangabhaban (1905-2005): press wing bangabhaban
৪) 400 years of capital Dhaka(2010): Plants, wildlife, Garden and Environment of capital  Dhaka. Asiatic Society of Bangladesh.


১২/ পাঠ্যপুস্তক(একক বা যৌথভাবে লিখিতঃ)
উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞানঃ হাসান বুক হাউস
উচ্চ মাধ্যমিক প্রানিবিজ্ঞানঃ স্টুডেন্ট বয়েজঃ ঢাকা
ব্যবহারিক জীববিজ্ঞানঃ হাসান বুক হাউস
College Biology (Higher Secondary): Jahangir Sons
৫) কলেজ বায়োলজি (উচ্চ মাধ্যমিক) জাহাঙ্গীর সন্স
৬) উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞানঃ বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি
৭) উদ্ভিদবিজ্ঞান ১ম খন্ড(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
৮) উদ্ভিদবিজ্ঞান ২য় খন্ড(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
৯) উদ্ভিদবিজ্ঞান ৩য় খন্ড(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১০) পরিবেশ বিজ্ঞান(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)মনোরম প্রকাশনী,ঢাকা।
১১) ব্যবহারিক উদ্ভিদবিজ্ঞান (স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১২) Practical Botany(স্নাতক  শ্রেনীর জন্য) হাসান বুক হাউস
১৩) উদ্ভিদ বিন্যাসতত্ত্ব (স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্ত্বর শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১৪) বায়োডাইভারসিটি এন্ড কঞ্জারভেশন(স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্ত্বর শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১৫) সাধারন বিজ্ঞান(৮ম শ্রেনীর জন্য)টেক্সট বুক বোর্ড ঢাকা (বর্তমানে প্রচলিত নয়)
১৬) মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান(৯ম-১০ম শ্রেনী)টেক্সট বুক বোর্ড, ঢাকা

১৩/ উনার দুইটি প্রকাশনালয়
হাসান বুক হাউস
আশরাফিয়া বই ঘর

১৪/ গবেষনামূলক পুস্তক প্রকাশনাঃ
1. Flora of Rema-kalenga Wildlife Sanctuary, Bangladesh
2. Flora of Bangladesh(lamiaceae): Bangladesh National Her-barium
3. Flora of Bangladesh(Lecythidaceae): Bangladesh National Her-barium
4. Plant Genetic resources Of Rema kalenga Wildlife Sanctuary, Bangladesh: Lambed Academic Publishing Company, Germany(2011)


১৫/ প্রতিষ্ঠাতা/প্রধান পৃষ্ঠপোষক
জামিয়া রশীদিয়া আশরাফিয়া খিরাটি(আরবী বিশ্ববিদ্যালয়)
হালিমা খাতুন মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র,খিরাটি
ডাঃ রওশন আরা হাসান নারি শিক্ষা কেন্দ্র,খিরাটি
ডঃএম এ হাসান মডেল স্কুল,খিরাটি
রাজধানী মহিলা কলেজ ,রূপনগর,মিরপুর,ঢাকা।

১৬/ সামাজিক কার্যক্রমঃ
অনন্ত নিবাস (কবরস্থান)খিরাটি৯দেয়াল ঘেরা সুরক্ষিত উচ্চভূমি এলাকা)
গ্রামিন আবাসন,খিরাটি(ভুমিহীনদের ভূমি বরাদ্ধসহ গৃহনির্মান প্রকল্প)
গরীবদের গাভী প্রদান প্রকল্পঃঅন্তত ১০টি+ গাভি প্রদান করা হয়েছে
নলকূপ প্রদান প্রকল্পঃঅন্তত ৩০টি নলকূপ প্রদান করা হয়েছে
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃসামাজিক কার্যক্রম সমূহ খিরাটি গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুসম্পন্ন করা হয়

১৭/ লার্নেড সোসাইটির সদস্যঃ
জীবন সদস্যঃ এশিয়াটিক সুসাইটি অব বাংলাদেশ
জীবন সদস্যঃ বাংলা একাডেমি
জীবন সদস্যঃ বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি
জীবন সদস্যঃ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব প্ল্যান্ট ট্যক্সোনমিষ্টস
জীবন সদস্যঃ বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতি

১৮/ বিবিধ দায়িত্ব পালনঃ
সভাপতিঃ পরিচালনা পরিষদ, ডঃ এম এ হাসান মডেল স্কুল, খিরাটি
সহ-সভাপতিঃ খিরাটি সিনিয়র মাদ্রাসা
সহ সভাপতিঃ বাংলাদেশ এসসিয়েশন অব প্ল্যান্ট ট্যক্সোনমিষ্টস
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, রাজধানী মহিলা কলেজ, রূপনগর, মিরপুর, ঢাকা
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
সদস্যঃ হার্বাল ঔষধ এডভাইজারি কমিটি, ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
চিফ এডিটরঃ বাংলাদেশ জার্নাল অব প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমি

১৯/ পূর্বে যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন
সভাপতিঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সভাপতিঃ পরিচালনা পরিষদ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,ঢাকা
সভাপতিঃ পরীক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড ঢাকা
সভাপতিঃ পরিচালনা পরিষদ,খিরাটি পূর্বপাড়া ডাঃ আব্দুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
সদস্যঃ ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি, ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় , গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সদস্যঃ ঔষধি উদ্ভিদের চাষাবাদ, অভ্যন্তরিন ব্যবহার, রপ্তানি ও গবেষনা কার্যক্রম বিষয়ে গঠিত এডভাইজরি কমিটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
সদস্যঃ মেডিসিনাল প্ল্যান্তস ও হার্বাল প্রদাক্তস ইবিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বানিজ্য মন্ত্রণালয়
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, বঙ্গতাজ ডিগ্রী কলেজ, খিরাটি
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, মনোহরদী ডিগ্রী কলেজ,মনোহরদী
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, খিরাটি সিনিয়র মাদ্রাসা
হোমিওবিশেষজ্ঞঃ ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, বাঙ্গলাদেশ সরকার
এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ বাংলাদেশ জার্নাল অব বোটানি
চিফ এডিটরঃ উদ্ভিদ বার্তা

২০/ গবেষনা কার্যক্রমঃ
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান সৃষ্টি উওভয়বিধ কাজ করতে হয়। জ্ঞান সৃষ্ঠির জন্য তাই প্রয়োজনীয় গবেষনা  ও গবেষনার ফলাফল উপযুক্ত বিবেচিত হলে দেশি ও বিদেশি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। ডক্টর মোহাম্মাদ আবুল হাসানের প্রকাশিত বই ও গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা একশতকের উপর
আন্তর্জাতিক মানের যেসব বিদেশি জার্নালে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর উল্লেখযগত্য কয়েকটি নিম্নরূপ
জার্মানি থেকে প্রকাশিত জার্নাল Planta Medica ও Pharmaze
জাপান থেকে প্রকাশিত জার্নালঃ Cytologia
লন্ডনের কিউ থেকে প্রকাশিতঃ IUCN এর Species
ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিতঃ Asian journal Of chemistry
আর্জেন্টিনা থেকে প্রকাশিতঃ Latin American Journal Of Pharmacy
হনোলুলু (USA) থেকে প্রকাশিতঃ Heliconia Society International-Bulletin
পাকিস্থান থেকে প্রকাশিত জার্নালঃ Hamdard Medicus
এছাড়া তাঁর তত্বাবধানে উপস্থাপিত একটি পিএইচডি থিসিসঃ Plant Genetic Resources Of rema kalenga Wildlife Sanctuary, Bangladesh রেফারেন্স বই হিসেবে সম্প্রতি জার্মানির Lamberd Academic Publishing Company প্রকাশ করেছে । এটি প্রমান করে অত্যন্ত সীমিত সুযোগ সুবিধা সংবলিত পরিবেশ গবেষণা করলেও বাংলাদেশকৃত এসব গবেষণা আন্তর্জাতিক মানের।

২১/ থিসিস তত্বাবধানঃ
প্রফেসর ডঃ মোঃ আবুল হাসানের তত্বাবধানে বহু গবেষক এম.এস; দুজন এমফিল এবং চারজন পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং আরো পাঁচজন পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণারত আছেন।
বিশেষ কথা
New York Academy of Sciences এর মেম্বারসীপ প্রদানের একটি রেপ্লিকা এবং American Biographical Institute এর একটি পত্র এখানে উপস্থাপন করা হলো তবে এর কোনটিই তিনি গ্রহণ করেননি
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাঃ ডঃ মোহাম্মদ আবুল হাসান-এর সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সাময়িকী
আলোকিত খিরাটি-প্রকাশকাল-২০১১

Sunday, April 10, 2016

কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নে!!



কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের মুচিবাড়ী টু রায়েদ বাজার রোডের রায়েদ মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় ৯ এপ্রিল শনিবার রাত ১১:৩০ মিনিটের দিকে গুরুতর এক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে।প্রত্যক্ষ্যদর্শীর মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সত্যতা ও বিবরণ kapasia Upazila পেইজের কাছে জানানো হয়েছে।উক্ত এলাকার প্রতিনিধির কাছ থেকে জানা গেছে দূর্ঘটনায় ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের নাম কালু মোড়ল,মুসলেউদ্দীন ও কাজীমুদ্দীন।সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাহ্য কমপ্লেক্স এ পাঠানো হলে এদের মধ্যে ২ জন কে উনন্ত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ট্রান্সফার করা হয়েছে।আহতরা সবাই রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন।
মূলত গাড়ির অতিরিক্ত গতি এবং রাস্তায় থাকা স্পিড ব্রেকারে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে।যদিও স্পিড ব্রেকারটিতে রং করা ছিলো বলে জানা গেছে এক্ষেত্রে চালকের বেপরোয়া গতিই দূর্ঘটনার কারন !
বলে রাখা ভালো যে এ স্হানে এর আগেও বার বার দূর্ঘটনা ঘটেচে এবং একজনের প্রানহানী ও হয়েছিলো তখন অবশ্য স্পিড ব্রেকার ছিলো না চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারনে প্রান হারাতে হয়েছিলো এক শিশুকে।কিন্তু এখন নিরাপত্তার কারনে দেওয়া স্পিড ব্রেকার আরো ভয়ংকর ও আতংক হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার মানুষের কাছে।
কাপাসিয়ার অনেক  রাস্তায় এরকম অনেক বিপদজনক স্পিড ব্রেকার আছে যার আশেপাশে সতর্কীকরণ কোন সাইন বোর্ড বা নোটিশ নেই এমনকি সতর্কীকরন রংও করা নেই সিপড ব্রেকার গুলোতে যার ফলে বার বারই এরকম দূর্ঘটনা ঘটছে।এলাকাবাসীর পক্ষ হতে কর্তৃপক্ষকে আকুল আবেদন জানাই অতি শিঘ্রই এর সুষ্ঠ ব্যবস্হা গ্রহন করার জন্য।
Kapasia Upazila Facebook page'র রায়েদ ইউনিয়ন প্রতিনিধি-মাসুদ পারভেজ

Wednesday, April 6, 2016

ফকির মজনু শাহ সেতুর ইতিহাস

ফকির মজনু শাহ সেতুর ইতিহাস
               :অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন: 

ফকির মজনু শাহ সেতু
 ফকির মজনু শাহ সেতু  গাজীপুর জেলার বৃহত্তম একটি সেতু।এটি কাপাসিয়ায় অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে নির্মিত হয়েছে হেতু অনেকে এটাকে শীতলক্ষ্যা ব্রীজ বলে থাকেন।
১৯৯৭ সালের ৯ মে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর উক্ত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।যার দৈর্ঘ্য ৩৯০ দশমিক ৯১ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার।সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ১৫ কোটি টাকা।
২০০৫ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটি উদ্বোধন করেন। সেতুটির মাধ্যমে ঢাকা-কাপাসিয়া-টোক-মঠখোলা-ইটাখোলা-কিশোরগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেটের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

কে ছিলেন এই ফকির মজনু শাহ
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় এক বিপ্লবী সেনানীর নাম ফকির মজনু শাহ্। আধ্যাত্মিক ও সুফী সাধক ফকির মজনু শাহ্ ছিলেন, পাক ভারতে ইতিহাস খ্যাত ফকির-সন্ন্যাসি আন্দোলনের মহা নায়ক । তাঁকে কেন্দ্র করেই ১৭৬০ থেকে ১৮০০ শতাব্দী পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪০ বছর ব্যাপী চলে ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলন।  ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বৃটিশ শাসন, শোষন, বঞ্চনার বিরুদ্ধে ও পরাধিনতার শিকল ভাঙ্গার র্দূবার ও অপ্রতিরোদ্ধ জিহাদে পরিনত হয় বাংলার জনপদ।
মীর জাফর আলী খান , উমিচাঁদ, রাজা রায়র্দূলভ, রাজা রাজ বল্লভ, মহা রাজা কৃষ্ণ, জগৎ শেঠ, ইয়ার লতিফ খান, খাদেম হোসেন আর ঘসেটি বেগমদের প্রসাদ ষড়যন্ত্রে পলাশীর প্রান্তরে বাংলা, বিহার, উরিষ্যার শেষ শ্বাধীন নবাব সিরাজ উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এ জনপদের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী যখন অত্যাচারের ষ্ট্রিম রোলার চালিয়ে বৃটিশ শাসন সুদৃঢ করছিল , সেই সুচনা লগ্নে প্রতিরোধের দেয়াল রচনা করেছিলেন ফকির মজনু শাহ্। ফকির মজনু শাহ্’র নেতৃত্বাধীন ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একই সময়ে মহীশূর সুলতান হায়দার আলী, তার সুযোগ্য পুত্র টিপু সুলতান ইংরেজ বাহিনী অগ্রযাত্রা প্রতিরোধে সিংহ পুরুষের মত গর্জে উঠেছিল। পরবর্তীতে মাওলানা নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের ১৯২৫ সালে বারাসাত বিদ্রোহ ও ১৯৩১ সালে নারিকেল বাড়িয়ার বাঁশের কেল্লার প্রতিরোধ সংগ্রাম, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও তার পুত্র মাওলানা নেসার উদ্দিন দুদু মিয়ার ফরায়েজি আন্দোলন, ১৮৫৭ সালের মহান সিপাহী বিপ্লব এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের রক্তাক্ত সিড়ি বেয়ে আমরা পাই মহান শ্বাধীনতা, একটি শ্বাধীন দেশ, বাংলাদেশ।
মোঘল শাসনের শেষ দিকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ন্যাসী ও ফকির সম্প্রদায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। কালক্রমে এই সন্নাসী ও ফকিরগন কারিগর ও কৃষকে পরিনত হয়। তবে কৃষকে পরিনত হলেও ফকিরগন রঙ্গিন আলখাল্লা এবং সন্ন্যাসীরা কোপীন পরিধান করত। এই ফকির ও সন্ন্যাসীদের একটি বড় অংশ ময়মনসিংহ, ভাওয়াল পরগনা ও উত্তরবঙ্গে বসবাস শুরু করে। উত্তর বঙ্গে বসবাসকারী ‘মাদারী’ সম্প্রদায়ভূক্ত ফকিরগন কৃষি কাজের পাশাপাশি দরগাহ্ ও তীর্থ ক্ষেত্র গুলোতে দল বেধে ঘুরে বেড়াত।
১৭৫৮ সালে ইংরেজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এই সন্ন্যাসী ও ফকিরদের তীর্থ ভ্রমন ও ধর্মানুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন  প্রকার কর ধার্য করতে থাকে। ১৭৫৮ সাল থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত এই ৬ বছরে মুর্শিদাবাদের ক্ষমতাহীন নবাব এবং ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর উৎপিড়ন, শোষনে সাধারণ কৃষক, কারিগর ও ফকির সন্ন্যাসীগন সর্বশ্বান্ত-নিঃশ্ব হয়ে পড়ে।
এ সর্ম্পকে প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক রেজিনাল্ড রেনল্ডস লিখেছেন, ‘‘ এই ছয় বছরের দুঃশাসনে জগৎবিখ্যাত মসলিনের কারিগরদের এক তৃতীয়াংশ  বনে-জঙ্গলে পলায়ন করেছিল।”
মসলিন কাপড়ের তুলা কার্পাসের জন্য বিখ্যাত গাজীপুরের কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের অনেক কৃষক, কারিগর, ফকির-সন্ন্যাসীগন ভাওয়াল ও মধূপুরের বন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল। ইংরেজ শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে নিস্পেষিত এসব কৃষক ও কারিগরগন ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টিংস এই কৃষক বিদ্রেুাহকে ‘‘ বহিরাগত ভ্রাম্যমান সন্ন্যাসী ও ফকির দস্যুদের বাংলাদেশ আক্রমন” বলে অভিহিত করলেও মূলত তা ছিল কারিগররুপি ফকির সন্ন্যাসীদের বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহীরা সশস্ত্র দলে সংঘটিত হয়ে ইংরেজ বনিকদের কুঠি-কাছারী এবং এদেশীয় তাদের দোসর দালাল জমিদারদের উপর উপর্যুপরি আক্রমন চালায়। বৃটিশ লেখক উইলিয়াম হান্টার তার এক গ্রন্থে বলেন, ‘‘এই কৃষক, কারিগর, ফকির সন্ন্যাসীদের  বিদ্রোহে উজ্জীবিত হয়ে মোঘল সাম্রাজ্যের ধবংস প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর বেকার ও বুভুক্ষ সৈন্যগনও বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ গ্রহন করেছিল।’’
ডব্লিউ হান্টার এবং ও’ম্যাল বলেন, ‘‘ বিদ্রোহীদের সংখ্যা এক সময় ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছিল।’’ ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় তাঁর, ‘‘ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম (পৃষ্ঠা-২৪) পুস্তকে লিখেছেন, ‘‘ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের মূল নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন ফকির মজনু শাহ্ তার সহযোগি হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, মুসা শাহ্, চেরাগ আলী শাহ্, সোবহান শাহ্, করিম শাহ্, মাদার বক্স, নুরুল মোহাম্মদ, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধূরানী, কৃপানাম, রামানন্দ ঘোসাই, পূতাশ্বর, অনুপম নারায়ণ, শ্রীনিবাস প্রমূখ ফকির-সন্ন্যাসী ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ।’’
                        
১৭৬০ সালে বর্ধমান জেলার সন্ন্যাসীরা সর্ব প্রথম বৃটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে। ১৭৬৩ সালে বিদ্রোহী ফকি গণ বাকেরগঞ্জ এবং ঢাকার ইংরেজ কুঠি আক্রমন করে দখল করে নেয়। ১৭৬৩ সালের মার্চ মাসে বিদ্রোহীরা রাজশাহী জেলার রামপুর-বোয়ালিয়ার ইংরেজ কুঠি আক্রমন ও লুন্ঠন করে। বিদ্রোহীরা কুঠির পরিচালক বেনেট সাহেবকে বন্দি করে পাটনায় এনে হত্যা করে। ১৭৬৬ সালে ৩০ অক্টোবর ফকির সন্ন্যাসী বাহিনী ইংরেজ ক্যাপ্টেন রেনেল ও মরিসনের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে পরাজিত করে কুচবিহার দিনহাটা এলাকায় তাদের  আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
১৭৬৭ সালে বিদ্রোহীরা পাটনার আশে-পাশে ইংরেজ সেনাবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। ইতিহাসবিদ সুপ্রকাশ রায় তার বিখ্যাত গ্রন্থ ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম গ্রন্থে  বলেন, ‘‘১৭৭০ সালের ‘মহা র্দুভিক্ষ’ বা ‘ছিয়াত্তরের মনন্তরের’ ফলে ক্ষুধার জ্বালায় বাংলাদেশের হতভাগ্য কৃষকরা বিদ্রোহী ফকির সন্ন্যাসীদের সাথে বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে। ফলে ১৭৭০ থেকে ১৭৭২ সালে সমগ্র বাংলা ও বিহার অঞ্চলে ইংরেজ বিরোধী মহা বিদ্রোহের রনক্ষেত্রে পরিনত হয়।
১৭৭০ সাল থেকে ১৭৭১ সালে ফকির আন্দোলনের মহা নায়ক আধ্যাতিক ও সূফি সাধক ফকির মজনু শাহ্ সমগ্র উত্তর বঙ্গে বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর এলাকায় ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ সময় বিদ্রোহের মূল কেন্দ্র স্থল ছিল পাটনা ও উত্তর বঙ্গের মহাস্থান গড়। ১৭৭৩ সালের পর থেকে উত্তর বঙ্গের রংপুর জেলা ফকির সন্ন্যাসীদের আন্দোলনের প্রধান ঘাটিতে পরিনত হয়। এখান থেকে শ্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীরা দিনাজপুর ও বগুড়া অঞ্চলের জমিদারদের কাছারী ও ইংরেজদের নীল কুঠি গুলো আক্রমন ও লুন্ঠন করতে থাকে।
১৭৭২ সালের ৩০ ডিসেম্ভর বিদ্রোহীরা রংপুর শহরের নিকটবর্তী শ্যামপুরে ইংরেজ সেনাপতি টমাসকে সদলবলে হত্যা করে। ১৭৭৩ সালের ১ মার্চ বিদ্রোহীরা ময়মনসিংহ জেলার মধূপুরের জঙ্গলে সশস্ত্র যুদ্ধে ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ডকে পরাজিত করে তার দলবল সহ নিহত করে।
১৭৮৬ সালের ২৯ ডিসেম্ভর বগুড়া জেলার কালেশ্বর নামক স্থানে ইংরেজদের সাথে সন্মূখ যুদ্ধে ফকির মজনু শাহ্ আহত হন। কিন্তু মজনু শাহ্ আহত হয়েছেন-এ সংবাদ গোপন রাখা হয়। অতঃপর ১৭৮৭ সালে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য বিনা চিকিৎসায় ‘ফকির মজনু শাহ্’ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আপোষহীন ও বিপ্লবী নেতা আধ্যাতিক ও সূফি সাধক ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের বীর সেনানী ইংরেজদের মহা আতংক ফকির মজনু শাহ্ এর বর্নাঢ্য সংগ্রামী জীবন অবসানের পর তার সুযোগ্য শিষ্যগণ ১৮০০ সাল পর্যন্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন তথা  বিদ্রোহের আগুন অব্যাহত রাখেন।
ফকির মজনু শাহ্’র জন্ম স্থান নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও তার আন্দোলনের প্রধান ঘাটি ছিল বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভাওয়াল ও মধূপুর গড়। এসব অঞ্চল এখনও তার আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে আছে। তার আন্দোলন ছিল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক। বৃটিশদের বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি, তখনই তিনি সিংহের মত গর্জে উঠে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মহা প্রতিরোধ রচনা করেছিলেন ফকির মজনু শাহ্’কে নিয়ে, তার আন্দোলন নিয়ে যতটুকু গবেষনা হওয়ার কথা তা আদো হয়নি। নতুন প্রজন্ম জানতে পারেনি এ বিপ্লবী শ্রমজীবী মানুষের সঠিক ইতিহাস।

 এ ব্যাপারে আমাদের উদাসিনতা দুঃখ জনক।  তার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য তারই অধ:স্তন বংশধর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ্ এর প্রচেষ্টায় গত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ‘ফকির মজনু শাহ্’ নামে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ফকির মজনু শাহ্’ নামের সেতুটি উদ্বোধণ করেছিলেন। ফকির মজনু শাহ্ নামের এ সেতুর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতা মজনু শাহ্ চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন।

Monday, February 29, 2016

সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী জামে মসজীদ,কাপাসিয়া গাজীপুর || MOSQUE

সুলতানপুর দরগাপাড়া শাহী জামে মসজীদ,কাপাসিয়া গাজীপুর || MOSQUE

Thursday, February 11, 2016

Tajuddin Ahmad || তাজউদ্দীন আহমদ || বঙ্গতাজ- ‍A ShorT Docu. Film 2016 ||...

Sunday, February 7, 2016

Tajuddin Ahmad || তাজউদ্দীন আহমদ || বঙ্গতাজ- ‍A Small Docu. Film 2016

Saturday, February 6, 2016

ANGRY Cow ! so funny Video !! LOL !!!

Thursday, February 4, 2016

Kapasia Upazila,Gazipur

BeautifuL Life ||Kapasia Upazila|| কাপাসিয়া-গাজীপুর।। || ভেলা||Film Bang...