Tuesday, April 26, 2016

গাজীপুর জেলার ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যা ও জনবসতির পরিচয় | বাংলাদেশ

জেলা পরিচিতি গাজীপুর

পর্ব নং ০২ – গাজীপুর জেলার ভৌগলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যা ও জনবসতির পরিচ

./ ভৌগোলিক অবস্থান
গাজীপুর বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত উচ্চভূমিসমৃদ্ধ জেলা। এখানে একদিকে রয়েছে ছোট ছোট টিলা ও বনভূমি, আবার অন্যদিকে খাল-বিল ও কিছু নিচু জমি বিরাজমান

গাজীপুর জেলার দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বাংশের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬মিটার এবং পশ্চিমদিকে কালিয়াকৈরে অবস্থিত টিলার উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। পশ্চিম থেকে পূর্ব দিক ঢালবিশিষ্ট এবং পশ্চিমে ব্রক্ষ্মপুত্র প্লাবনভূমির দিকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবনমিত সোপান দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত। গাজীপুর জেলার ভাওয়ালগড় পশ্চিম ৬টি সারিবদ্ধ পরস্পর
সমান্তরাল ফল্টস দ্বারা গঠিত

৯ থেকে ২১ কিলোমিটার লম্বা এই ফল্টসগুলো টাঙ্গাইল জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। ফল্টস-এর ভূ-অবস্থানিক কারণে এ অঞ্চলে মাঝে মাঝে ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। উত্তরদিকে শ্রীপুরে হারিয়ে যাওয়া লবলং নদীর উৎসমুখ বরাবর - রয়েছে। টিলা, নিচুভূমি ও বনভূমি মিলিয়েই গাজীপুর জেলার অবস্থান। জেলার উত্তরে বনভূমির মধ্যবর্তী এলাকায় উত্তর-দক্ষিণ বরাবর শিরার ন্যায় একটি উচ্চভূমি বিদ্যমান, যা তুরাগ ও বানার নদীর জল বিভাজিকা হিসেবে চিহ্নিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গাজীপুরের বনভূমি এলাকার গড় উচ্চতা ১৮ মিটার। তবে বনভূমির কিছু এলাকার উচ্চতা ৫০ মিটারের বেশি। এগুলোকে বলা হয় পাহাড়ি এলাকা । 
গাজীপুরের জলবায়ু সমভাবাপন্ন ও নাতিশীতোষ্ণ। বার্ষিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ডিগ্রি সে এবং সর্বনিম্ন ১২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২৩৭৬ মিলিমিটার। _
উত্তরে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে কিশোরগঞ্জ জেলার অংশবিশেষ ও নরসিংদী জেলা, দক্ষিণে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ এবং পশ্চিমে ঢাকার অংশবিশেষ সেভার) ও টাঙ্গাইল জেলা। গাজীপুর জেলার বিস্তৃতি বাংলাদেশের মোট ভূমির ১.১৮ ভাগ।
২৩ ডিগ্রি ৫৩ ইঞ্চি থেকে ২৪ ডিগ্রি ২৪ ইঞ্চি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ ডিগ্রি ৯ ইঞ্চি থেকে ৯০ ডিগ্রি ৪২ ইঞ্চি পূর্ব দ্রাঘিমা পর্যন্ত।



উপজেলা অনুযায়ী আয়তন (বর্গ কিলোমিটার)


উপজেলার নাম
আয়তন
নদী এলাকা
বনভূমি
সর্বমোট আয়তন
জেলা আয়তনের হার(%)
গাজীপুর সদর
৩৬৩.৪৮
-
৫৪.৫২
৪১৮
২৪.০০
কালিয়াকৈর
২৩৩.০৬
১.২২
৭৯.৭২
৩১৪
১৮.০৪
কালীগঞ্জ
১৫৬.৫১
২.১৫
০.৩৪
১৫৯

৯.১৩
কাপাসিয়া
৩২৮.৯১
১০.৬৯
১৭.৪০
৩৫৭
২০.৫১
শ্রীপুর
৩৪০.০৪
৩.১৬
১২১.৪৪
৪৬৫
২৬.৭১
টঙ্গী
২৭.০৭
০.৩
-
২৮
১.৬১

২.২/ উপজেলাভিত্তিক গাজীপুরের ভৌগোলিক অবস্থান
উপজেলাভিত্তিক গাজীপুরের ভৌগোলিক সীমানা পূর্বে সদর উপজেলার নাম ছিল জয়দেবপুর থানা। ১৯৮৪ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর নতুন নামকরণ হয় গাজীপুর সদর উপজেলা। এই উপজেলার উত্তরে শ্রীপুর ও কাপাসিয়া উপজেলা, পশ্চিম কালিয়াকৈর উপজেলা ও ঢাকা (সাভার উপজেলা ও আশুলিয়া থানা), পূর্বে শ্রীপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিনে ঢাকা জেলার উত্তর সীমানা । জেলা সদর জয়দেবপুর মৌজায় চিলাই নদীর দক্ষিণ তিরে অবস্থিত কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তরে শ্রীপুর উপজেলা, পূর্বে গাজীপুর সদর উপজেলা, ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা এবং পশ্চিমে টাঙ্গাইল  জেলার পশ্চিম সীমানা।উপজেলা শহর বংশী নদীর তীরে অবস্থিত।
কাপাসিয়া উপজেলার উত্তরে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর ও কটিয়াদী উপজেলা, পূর্বে নরসিংদী জেলার পশ্চিম সীমানা(মনোহরদী উপজেলা), দক্ষিণে কালীগঞ্জ উপজেলা এবং পূর্বে শ্রীপুর উপজেলা । কাপাসিয়া উপজেলা শহর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত ।
এ উপজেলার উত্তরে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও ও ভালুকা উপজেলা, ব্রহ্মপুত্র নদ ও সূতী নদী, পশ্চিমে ভালুকা উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলার পূর্ব সীমানা, পূর্বে কাপাসিয়া উপজেলা এবং দক্ষিণে গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর ও কালীগঞ্জ উপজেলা
কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তরে কাপাসিয়া উপজেলা, পূর্বে শীতলক্ষ্যা নদী, নরসিংদী জেলার পূর্ব সীমানা, দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলা ও ঢাকা জেলা এবং পশ্চিমে গাজীপুর সদর উপজেলা ।
গাজীপুর সদর উপজেলার টঙ্গী ও গাজীপুর পৌরসভা এবং গাছা, পূবাইল, কোণাবাড়ি, কাশিমপুর, কাউলতিয়া ,বাসন ইউনিয়নকে নিয়ে গঠিত হয় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনএই সিটি কর্পোরেশন মধ্যেই অবস্থিত শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ নতুন নগর –জনপদ ।গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক কারখানা এ অঞ্চলে স্থাপিত । গাজীপুরসদর উপজেলায় রয়েছে কিছু নিম্নভূমি ও সামান্য টেকটিলা, কাপাসিয়ায় রয়েছে পলিসমৃদ্ধ ভূমি, টিলাসমৃদ্ধ শালবন ও কিছু ঝিলবিল, কালীগঞ্জে কিছু সমতল ভূমি, জলাশয় ও বিল, শ্রীপুরে টিলা ও উঁচু ভূমির আধিক্য এবং কালিয়াকৈর উপজেলায় রয়েছে নদী, খাল-বিল, নিচুভূমি ও কিছু টিলা

জেলা/উপজেলার ভৌগলিক পরিচিতি ও পরিসংখ্যান
আয়াতনঃ ১৭৭০.৫৪ বর্গ কিলোমিটার
নদনদীঃ ১৭.৫৩ বর্গ কিলোমিটার
বনভূমিঃ ২৭৩.৪২ বর্গ কিলোমিটার
উপজেলার পরিসংখ্যাগত তথ্য
উপজেলার নাম
ইউনিয়নের সংখ্যা
মৌজা
গ্রাম
পৌরসভা
ওয়ার্ড
মহল্লা
গাজীপুর সদর
১৮৯
২৪৪
১ সি.ক.

৬১
কালিয়াকৈর
১৮১
২৮৩
১ পৌরসভা


কালীগঞ্জ
৯৩
১০৫



কাপাসিয়া
১১
১৬৬
২৩১



শ্রীপুর
৮১
১৮৬
১ পৌরসভা

সূত্রঃ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ

২.৩/ জনসংখ্যা ও জনবসতির পরিচয়
মোটঃ জনসংখ্যা ৩৭২৬১১৪ জন ; পুরুষঃ ১৯২৭৭৩৯ জন, মহিলাঃ ১৭৯৮৩৭৫ জন
পুরুষের শতকরা হারঃ ৫১.৭৪%, নারীর শতকরা হারঃ ৪৮.২৬%, শিশুর শতকরা হারঃ৩১.৫৮%, (১-১৮ বছর) জনসংখ্যার ঘনত্বঃ প্রতি বর্গ কিলোমিটার ২১০৪ জন
গাজীপুরের জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলমানএছাড়া এখানে রয়েছেন হিন্দু, খ্রিষ্টান ও কিছু ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী । পেশাভিত্তিক সম্প্রদয়ের মধ্যে রয়েছে কৃষিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, কবিরাজ, শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পকারখানার শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিক ।
গাজীপুরের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীদের মধ্যে আছে কোচ বা রাজবংশী, গারো, মুচি, নাপিত, কলু, বেদে, ওঝা প্রভৃতি সম্প্রদায় । শিক্ষার হারঃ ৫৬.৪০% (সরকারি হিসাব অনুযায়ী ) ।


যারা ১নং পোষ্টটি দেখতে মিস করেছেন
তাদের জন্য নিচে লিংক দেয়া হল

Monday, April 25, 2016

অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহ সাহেবকে বহিষ্কারের চিঠি পাঠালেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়!!

অবশেষে অধ্যক্ষ ছানাউল্লাহকে বরখাস্ত করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির মুল অংশ নিচে তুলে ধরা হলো।
কাপাসিয়া কলেজের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়সহ সার্বিক বিষয়ে তদন্তের লক্ষ্যে গঠিত  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত টিমের পর্যবেক্ষনে অধ্যক্ষ ছানাউল্লার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত আমলযোগ্য মারাত্মক ত্রুটিসমুহ পরিলক্ষিত হয়েছে:
১/ অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটার হওয়া ও নির্বাচন করা সংক্রান্ত বিধি-বিধান উপেক্ষা করা
২/ অভিভাবক ও শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যায়ের বিধিমালা লংঘিত হওয়ার পরও নির্বাচন সঠিক পদ্ধতিতে হয়েছে বলে তদন্ত কমিটির কাছে অসত্য তথ্য উপস্হাপন করা
৩/ কলেজের জমি বিক্রি বা বেদখল হয়নি বলে তদন্ত কমিটিকে অসত্য তথ্য প্রদান করা
৪/ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকার পরও শুধুমাত্র সুষ্ঠু তদারকির ও যথাযথভাবে পরিচালনার অভাবে কলেজে সুষ্ঠু একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া এবং পরীক্ষার্থীদের ফলাফল খুবই খারাপ হওয়া
৫/ শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া।
উল্লেখিত কারণসহ প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং কলেজ পরিচালনায় ব্যর্থতার জন্য অনতিবিলম্বে গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্তক্রমে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনপূর্বক অন্তর্তি সময়ের জন্য বিধি মোতাবেক একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অবহিত করার জন্য সভাপতিকে অনুরোধ করা হলো।

Sunday, April 24, 2016

কাপাসিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান হিসেবে যারা নির্বাচিত !!

কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান হলেন যারা –
এক নজরে দেখে নিন কে হলো আপনার এলাকার নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

১/ সিংহশ্রী ইউনিয়ন: (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী) আশরাফ উদ্দিন খান আল আমিন (আনারস)

২/ রায়েদ ইউনিয়ন: আ: হাই (নৌকা)

৩/ টোক ইউনিয়ন: (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী) ওয়াহিদ (আনারস)

৪/ বারিষাব ইউনিয়ন: আতাউজ্জামান বাবলু (নৌকা)

৫/ ঘাগটিয়া ইউনিয়ন: শাহীনুর আলম সেলিম (নৌকা)

৬/ সন্মানিয়া ইউনিয়ন: শাহদাত হোসেন (নৌকা)

৭/ কড়িহাতা ইউনিয়ন: মাহবুবুল আলম মোড়ল (নৌকা)

৮/ তারগাঁও ইউনিয়ন: আয়বুর রহমান সিকদার (নৌকা)

৯/ কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন: সাখাওয়াত হোসেন (নৌকা)

১০/ চাঁদপুর ইউনিয়ন: মিজানুর রহমান (নৌকা)

১১/ দূর্গাপুর ইউনিয়ন: এম গাফ্ফার (নৌকা)


আমাদের পক্ষ থেকে উনাদের প্রতি রইলো প্রানঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আমরা আশা করব উনারা নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দারাবেন এবং উন্নয়নের ছোয়া লাগাবেন সর্বত্র।

কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হলেন যারা

কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান হলেন যারা –
১/ সিংহশ্রী ইউনিয়ন: (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী) আশরাফ উদ্দিন খান আল আমিন (আনারস)
২/ রায়েদ ইউনিয়ন: আ: হাই (নৌকা)
৩/ টোক ইউনিয়ন: (আওয়ামীলীগ বিদ্রোহী) ওয়াহিদ (আনারস)
৪/ বারিষাব ইউনিয়ন: আতাউজ্জামান বাবলু (নৌকা)
৫/ ঘাগটিয়া ইউনিয়ন: শাহীনুর আলম সেলিম (নৌকা)

৬/ সন্মানিয়া ইউনিয়ন: শাহদাত হোসেন (নৌকা)
৭/ কড়িহাতা ইউনিয়ন: মাহবুবুল আলম মোড়ল (নৌকা)
৮/ তারগাঁও ইউনিয়ন: আয়বুর রহমান সিকদার (নৌকা)
৯/ কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন: সাখাওয়াত হোসেন (নৌকা)
১০/ চাঁদপুর ইউনিয়ন: মিজানুর রহমান (নৌকা)
১১/ দূর্গাপুর ইউনিয়ন: এম গাফ্ফার (নৌকা)

Friday, April 22, 2016

গাজীপুর জেলা নামকরনের ইতিহাস ও পরিচিতি | বাংলাদেশ

জেলা পরিচিতি গাজীপুরঃ
নামকরণ ও প্রতিষ্ঠা
এক সময়ের প্রাচীন জনপদ ‘ভাওয়াল’ পরগনা বর্তমানে গাজীপুর নামে পরিচিত। ভাওয়াল নামকরনের পিছনে রয়েছে সুদীর্ঘ  ঐইতিহাসিক পটভূমি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে ধারনা করা হয় যে, প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে বঙ্গ জনপদের এ অঞ্চল মোঘল সম্রাট আশোকের শাসনাধীন ছিল।
এ ধারণার কারন জয়দেবপুরে অবস্থিত সাকাশ্বর স্তম্ভ। প্রাচীনযুগ থেকেই এ অঞ্চলের ডবাক ডাকুরাই সাকেশ্বর প্রভূতি ক্ষুদ্র জনপদ পাল, দাস, চেদী ও চন্ডালদের দ্বারা শাসিত হয়। মুসলিম শাসনামলে এই জনপদগুলো  ভাহওয়াল (ভাওয়াল) নামে সুবৃহৎ পরগনায় পরিণত হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায় যে, খ্রিষ্টীয় নবম শতাব্দীর দিকে রাজা যশোপাল, শিশুপাল প্রতাপ  ও মহেন্দ্ৰ ভাওয়ালের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ স্থাপন করেন। প্রচলিত  কিংবদন্তি অনুসারে, এই ক্ষুদ্র সামন্ত রাজ্যগুলো চেদী রাজ্য নামে পরিচিত ছিল।
বর্তমান গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, কালিয়াকৈর (আংশিক), কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, টঙ্গীসহ ময়মনসিংহ জেলার গফরগাও ও ত্রিশাল উপজেলার অংশবিশেষ, ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার অংশবিশেষ, নারায়ণগঞ্জ  জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার উত্তরাংশ এবং টঙ্গীর পশ্চিমে হরিরামপুর ইউনিয়ন নিয়ে এই ক্ষুদ্র চেদী রাজ্যগুলো বিদ্যমান ছিল।
ভাওয়াল নাম নিয়ে নানা মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। ভাওয়াল গবেষক নুরুল ইসলাম ভাওয়ালরত্নের মতানুসারে, চন্ডাল রাজাদের পতনের পর ভাওয়াল গাজীদের অধিকারে আসে। কারও কারও মতে, ভদ্রপাল বা ভবপাল নাম থেকে ভাওয়াল নামকরণ হয়। মহাভারতে বর্ণিত কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় ‘ভবপাল’ নামক রাজ্যের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। মতান্তরে, ‘ভগালয়’ থেকে ভাওয়াল নামের উৎপত্তি, কারণ মহাভারতে ‘ভগালয়' নামেরও উল্লেখ রয়েছে। ব্রম্মা- পুরাণে ভদ্র’ নামের একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। গবেষক নুরুল ইসলামের মতে, আইন-ই-আকবরী গ্রন্থ থেকেই প্রথম জানা যায় যে, এ অঞ্চলের নাম ভাওয়াল।
ইতিহাসবিদদের ধারণা, দ্বাদশ শতাব্দীতে ভাওয়াল জনপদের ওপর থেকে সেন বংশীয় রাজাদের শাসন ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে মুসলমানদের বঙ্গ বিজয়ের পর থেকে এখানকার বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলিম শক্তির উত্থান ঘটে।
এই ধারাবাহিকতায় ভাহওয়াল (ভাওয়াল) গাজী শক্তিশালী হয়ে ওঠেন এবং একে একে তিনি এ অঞ্চলের চেদী রাজ্যগুলো দখল করে নেন।  অতঃপর নিজের নামানুসারে এই জনপদের নামকরণ করেন ভাওয়াল। তাঁর প্রকৃত নাম ভাহওয়াল গাজী, তা থেকে স্থানীয় ভাষায় তাকে বলা হয় ভাওয়াল গাজী। নবাবী আমলে ভাওয়াল পরগনার রাজস্ব আদায়ের জন্য ধীরাশ্ৰেম একটি থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ধীরাশ্ৰেমকে ঘিরে সে আমলে এখানে গড়ে ওঠে এক সমৃদ্ধ জনপদ যার নিদর্শ্ন এখানে ভগ্ন দালান, দিঘি ও রাস্তাঘাট
রাহাপাড়া, তেলীনগর, হয়দ্রাবাদ, রথখোলা, ভারারুল, মেঘডুবি প্রভৃতি গ্রামে এসব নিদর্শনের কিছু কিছু এখনো অবশিষ্ট আছে।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। তৎকালীন আওয়ামীলীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদ ভাওয়ালগড় জেলা নামে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিন্যাসের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন। পরবর্তী পৰ্যায় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাগণ ঢাকা সদর উত্তর মহকুমাকে ভাওয়ালগড় মহকুমা নামে জয়দেবপুরে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু  তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের আমলে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে তখন থেকেই এ অঞ্চল ভাওয়ালগড় জেলা নামে পরিচিতি লাভ করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভাওয়ালগড়কে জেলা হিসেবে উন্নীত করার দাবি উত্থাপন করে।

১৯৭৮ সালে জয়দেবপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আ.ক.ম মোজাম্মেল হক কে আহবায়ক করে প্রাথমিকভাবে ঢাকা সদর উত্তর মহকুমাকে জয়দেবপুরে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরম্ভ হয়। সে সময় সরকার মহকুমার নামকরণের জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির পক্ষ থেকে 'ভাওয়াল’, ‘ভাওয়ালগড়’ ও ‘গাজীপুর’-এ তিনটি নাম প্রস্তাব করে সরকারের কেবিনেট বিভাগে পাঠানো হয়। ভাওয়ালের বীর গাজীদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ‘গাজীপুর’ নামটি অনুমোদন করে এভাবে গঠিত হয় গাজীপুর মহকুমা।
১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকার দেশের মহকুমাগুলোকে জেলায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু গাজীপুর মহকুমা তা থেকে বাদ পড়ে। এতে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অবশেষে মরহুম হাবিবুল্লাহকে_ আহবায়ক ও আ ক ম মোজাম্মেল হককে সদস্য সচিব করে ১৯ সদস্যবিশিষ্ট গাজীপুর জেলা বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠিত হয়। কমিটির সদস্যগণ গাজীপুর জেলা গঠনের দাবিতে ব্যাপক প্রচার, যোগাযোগ ও আন্দোলন শুরু করলে সরকার তাদের দাবি মেনে নিয়ে গাজীপুরকে জেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৮৪ সালের ১ মার্চ তৎকালীন সরকারের মুখ্য অর্থসচিব এম সাইদুজ্জামান নতুন গাজীপুর জেলার উদ্বোধন করেন। আয়তনের দিক থেকে ঢাকা বিভাগের ১৭ জেলার মধ্যে গাজীপুরের অবস্থান সপ্তম এবং বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে গাজীপুর ৩৯তম।

=>সিটি কর্পোরেশন ১টি (গাজীপুর)
=>উপজেলা ৫টিঃ- গাজীপুর সদর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, কালীগঞ্জ ও শ্রীপুর।
=>থানা ৬টিঃ- জয়দেবপুর, টঙ্গী (গাজীপুর সদর উপজেলাধীন), কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও কালীগঞ্জ।
=>পৌরসভা ৪টিঃ- টঙ্গী, গাজীপুর, কালিয়াকৈর ও শ্রীপুর।
=>ইউনিয়ন পরিষদঃ- ৪৭ টি, মৌজা ৮১৪ টি, গ্রাম ১৩৩০টি ও তহসিল ৩৫টি।

এই সবকিছু নিয়ে আমাদের প্রাণের গাজীপুর।

Tuesday, April 19, 2016

A Village Fair || একটি গ্রাম্য মেলা || ঐতিহ্যবাহী তরগাঁও বৈশাখী মেলা

A Village Fair || একটি গ্রাম্য মেলা
A village fair is an occasion of the village people to enjoy a public gathering. It is one of the most important events for the villagers in a year. The fair is held on a specific occasion including Pahela Baishakh, Chaittro Sangkranti, Eid ul-Fitr, Eid ul-Adha, Durga Puja or birthday of a Bangalee writer, etc.
ঐতিহ্যবাহী তরগাঁও বৈশাখী মেলা,কাপাসিয়া,গাজীপুর
ব্রিটিশ আমল থেকে কাপাসয়িা উপজেলার শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তরগাঁও মেলা হয়ে আসছে প্রতি বৈশাখের মূলত ২য় দিন।
ঘুরি বিক্রেতা জনাব মোঃফিরোজ মিয়া (তরগাঁও) প্রায় ৪০ বছর যাবৎ তরগাও মেলায় ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করে আসছেন।উনার ঘুড়ির সুনাম ও রয়েছে সবার কাছে।
মেলার স্পেশাল আকর্ষণ জিলাপী।কিন্তু এবার জিলী দেখে এর সমালোচরা না করে পারা গেলো না।শুধু নামেই জিলাপী রং দিয়ে রাঙ্গানো জিলাপী,আসল স্বাদ ও চেহারা আর নেই।
সব মিলিয়ে তরগাঁও মেলা অসাধারণএকটি গ্রামীন মেলার উদাহরন।যদিও ডিজিটাল ছোঁয়ার ফলে অনেক কিছুই বদলে যাচ্ছে হারিয়ে যাচ্ছে পুরাতন ঐতিহ্য।।

Monday, April 18, 2016

কাক্কুর ঘুড্ডি || কাপাসিয়ায় ঘুরি উড়ানো || ঘুরি উৎসব || Amazing Kite Flying

বৈশাখে কাপাসিয়ার ছেলেপেলেরা ঘুরি উড়াবে না তা কি হয়?

যদিও আগের মতো দিন আর নেই।গুরুজনেরাউ বলেন এখন আর আগের মেতন মেলা ও জিমে না ঘুরি ও উড়ানো হয় না।

উক্ত ঘুড়ি টি ঘুরি পাগল মো:মাসুম এর সে প্রতিবছরই একটা করে বড় ঘুরি কেনে বৈশাখী মেলা থেকে।

Sunday, April 17, 2016

কাপাসিয়ার প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ আবুল হাসান -Dr. Mohammad Abul Hasan

ডক্টর মোহাম্মদ আবুল হাসান সাহেবের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
১/ ডক্টর মোহাম্মদ আবুল হাসান
জন্মঃ ২৩ শে অক্টোবর, ১৯৪৬ বৃহস্পতিবার সময় আসর (প্রকৃত তারিখ)
১লা জানুয়ারি ১৯৪৯(এস এস সি সার্টিফিকেট অনুযায়ী)
গ্রামঃ খিরাটি, ডাকঘরঃ খিরাটি, ইউনিয়নঃ ঘাগটিয়া, উপজেলাঃ কাপাসিয়া, জেলাঃগাজীপুর
পিতাঃ আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রশিদ(মরহুম)
মাতাঃ আলহাজ্বা হালিমা খাতুন(মরহুমা)
২/ ভাই-বোন পাঁচ ভাই ৩ বোনের মাঝে দ্বিতীয়।
বড় ভাইঃ মাওলানা আবুল কাশেম মোঃমুখলেছুর রহমান বিএ অনার্স ,এম এ (অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক)
ছোট ভাইঃ-
২.১/ হাফেজ আবু ইউসুফ মোঃ নোমান(ধর্মীয় শিক্ষক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী)
২.২/ আবু তৈয়ব মোঃ আব্দুল্লাহ(মোহতামীম,জামিয়া রশীদিয়া আশরাফিয়া, খিরাটি)
২.৩/ হাফেজ আবু আহম্মদ মোঃ রেজাউর রহমান(কুরআন শিক্ষক, নারীশিক্ষা কেন্দ্র)

৩/ সন্তানাদিঃ
হাফেজ মুহাম্মদ আরশাদুল হাসান শামীম, বি.এ অনার্স ১ম শ্রেনীতে প্রথম, গোল্ডমেডেলিষ্ট; এমএ ১ম শ্রেনীতে প্রথম, প্রভাষক, আরবি বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।
আশরাফুল হাসান নাসিম, বিএ অনার্স (১ম শ্রেনী); বর্তমানে কানাডায় উচ্চ শিক্ষায় অধ্যায়নরত
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান নাঈম,বিএসসি অনার্স ১ম শ্রেনীতে প্রথম, গোল্ডমেডেলিষ্ট, প্রভাষক, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৪/ শিক্ষা জীবনঃ
প্রাথমিক শিক্ষাঃ খিরাটি আব্দুল কুদ্দুস পন্ডিত সাহেবের বাড়ীর প্রাথমিক বিদ্যালয়(প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল নিউস্কিম মাদ্রাসা)
মাধ্যমিক শিক্ষাঃ মনোহরদী হাই স্কুল, মনোহরদী, এসএসসি(মানবিক)১৯৬৪
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাঃ গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ ১৯৬৮।
স্নাতক শিক্ষাঃ গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ, বিএসসি ১৯৬৮
জীববিজ্ঞান গ্রুপে ১ম এবং সম্মিলিত মেধা তালিকায় সপ্তম
স্নাতকোত্তর শিক্ষাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র
এমএসসি প্রিলিমিনারিঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রথম শ্রেনীতে প্রথম ১৯৬৯
এমএসসি ফাইনালঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান১৯৭০, প্রথম শ্রেনিতে প্রথম (ফল প্রকাশ ১৯৭১)
পিএইচডিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯০, প্লান্ট ট্যাক্সোনমি
সামার সায়েন্স ইনষ্টিটিউট ট্রেনিংঃ ১ম শ্রেনীতে ১ম (১৯৭৪)

৫/ চাকরিঃ প্রভাষক হিসেবে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে (ঢা.বি) যোগদান ১১ই জানুয়ারি ১৯৭৩, পর্যায়ক্রমে সহকারি অধ্যাপক (১৯৭৯) সহযোগী অধ্যাপক (১৯৯০) এবং অধ্যাপক পদে উন্নীত(১৯৯৩)।১৯৯৭ থেকে অধ্যাপক সিলেকশন গ্রেড।

৬/ আগ্রহঃ শিক্ষা বিস্তার, সমাজসেবা এবং বই লেখা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক গবেষনার মাধ্যমে জ্ঞানসৃষ্টি এবং আল্লাহর সৃষ্টি রহস্য উন্মোচন।

৭/ প্রকাশনাঃ প্রকাশিত গবেষনা প্রবন্ধঃপ্রায় ১০০টি


৮/ প্রকাশিত বইঃ
প্রথম পান্ডুলিপি ছিল (১৯৬৬) একটি নাটকের যা রেডিও পাকিস্থান থেকে প্রচারের উদ্দেশ্যে লিখিত।নাকটটি প্রচারের জন্য শর্ত সাপেক্ষে নির্বাচিত হয়েছিল। শর্ত ছিল নাকটটি আধা ঘন্টার প্রচারের উপযোগী করে দিতে হবে। শর্ত পালন করা হয়নি নাকটটি প্রচারও করা হয় নাই। প্রথম প্রকাশিত বই হল নানা রঙ্গ – নামের একটি হাসির গল্প।
শিশুদের জন্যঃ বর্ণমালার ছড়া, ছড়ার মেলা, সোনামনিদের আরবী ও ইসলাম শিক্ষা ১ম ও ২য় ভাগ পর্যন্ত।
কিশোরদের জন্যঃ গাছপালার কথা
সাধারণের জন্যঃ
১) মধু ও স্বাস্থ্যঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
২) বাংলাদেশ ভেষজ উদ্ভিদঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
৩) বাংলাদেশের লোকজ বনৌষধিঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৪) দেশীয় শাক সবজির পুষ্টি উপাদান, ভেষজগুন ও পথ্য বিচারঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
৫) গাছ গাছড়া দিয়ে চিকিৎসাঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৬) আমাদের ভেষজ সম্পদঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৭) বাংলাদেশের বিষাক্ত উদ্ভিদঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৮) সাধারন রোগব্যধির হার্বাল চিকিৎসাঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা
৯) মহান আল্লাহতায়ালার পবিত্র বানীঃ আশরাফিয়া বই ঘর, ঢাকা।

৯/ হোমিওপ্যাথিঃ
১) সহজ প্যাথলজি শিক্ষাঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
২) হোমিও ভেষজ বিজ্ঞানঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা
৩) অর্গানন অব মেডিসিনঃ হাসান বুক হাউস, ঢাকা

১০/ লেখা ও সম্পাদনাঃ
১)প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ(পরিচিতি, চাষ ও ব্যবহার বিধি)
   ১ম খন্ডঃ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
২) প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ(পরিচিতি, চাষ ও ব্যবহার বিধি)
   ২য় খন্ডঃ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
৩) প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ(পরিচিতি, চাষ ও ব্যবহার বিধি)
   ৩য় খন্ড (যন্ত্রস্থ): স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রনালয়, গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার


১১/ সম্পাদনা/সদস্য সম্পাদনা পরিষদঃ
1. Encyclopedia of Flora and fauna  Of Bangladesh : Asiatic Society of Bangladesh (28 Volumes)
বাংলাদেশের উদ্ভিদ ও প্রানী জ্ঞানকোষঃ ২৮ খন্ডঃ এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বাংলাদেশ
এঞ্জিওস্পার্ম ট্যাক্সোনমিঃ স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর  শ্রেণীর জন্য
জিমনোস্পার্ম, প্যালিওবোটানি, ইকোনমিক বোটানি এবং ইথনোবোটিকঃস্নাতক শ্রেনীর জন্য।
এন্ট্রি বা অধ্যায় লেখকঃ
১) বাংলাপিডিয়াঃ এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ
২) বঙ্গভবনের শতবর্ষ(১৯০৫-২০০৫): প্রেস উইং বঙ্গভবন
৩) Hundred years of Bangabhaban (1905-2005): press wing bangabhaban
৪) 400 years of capital Dhaka(2010): Plants, wildlife, Garden and Environment of capital  Dhaka. Asiatic Society of Bangladesh.


১২/ পাঠ্যপুস্তক(একক বা যৌথভাবে লিখিতঃ)
উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞানঃ হাসান বুক হাউস
উচ্চ মাধ্যমিক প্রানিবিজ্ঞানঃ স্টুডেন্ট বয়েজঃ ঢাকা
ব্যবহারিক জীববিজ্ঞানঃ হাসান বুক হাউস
College Biology (Higher Secondary): Jahangir Sons
৫) কলেজ বায়োলজি (উচ্চ মাধ্যমিক) জাহাঙ্গীর সন্স
৬) উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদ বিজ্ঞানঃ বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি
৭) উদ্ভিদবিজ্ঞান ১ম খন্ড(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
৮) উদ্ভিদবিজ্ঞান ২য় খন্ড(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
৯) উদ্ভিদবিজ্ঞান ৩য় খন্ড(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১০) পরিবেশ বিজ্ঞান(স্নাতক শ্রেনীর জন্য)মনোরম প্রকাশনী,ঢাকা।
১১) ব্যবহারিক উদ্ভিদবিজ্ঞান (স্নাতক শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১২) Practical Botany(স্নাতক  শ্রেনীর জন্য) হাসান বুক হাউস
১৩) উদ্ভিদ বিন্যাসতত্ত্ব (স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্ত্বর শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১৪) বায়োডাইভারসিটি এন্ড কঞ্জারভেশন(স্নাতক, স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্ত্বর শ্রেনীর জন্য)হাসান বুক হাউস
১৫) সাধারন বিজ্ঞান(৮ম শ্রেনীর জন্য)টেক্সট বুক বোর্ড ঢাকা (বর্তমানে প্রচলিত নয়)
১৬) মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান(৯ম-১০ম শ্রেনী)টেক্সট বুক বোর্ড, ঢাকা

১৩/ উনার দুইটি প্রকাশনালয়
হাসান বুক হাউস
আশরাফিয়া বই ঘর

১৪/ গবেষনামূলক পুস্তক প্রকাশনাঃ
1. Flora of Rema-kalenga Wildlife Sanctuary, Bangladesh
2. Flora of Bangladesh(lamiaceae): Bangladesh National Her-barium
3. Flora of Bangladesh(Lecythidaceae): Bangladesh National Her-barium
4. Plant Genetic resources Of Rema kalenga Wildlife Sanctuary, Bangladesh: Lambed Academic Publishing Company, Germany(2011)


১৫/ প্রতিষ্ঠাতা/প্রধান পৃষ্ঠপোষক
জামিয়া রশীদিয়া আশরাফিয়া খিরাটি(আরবী বিশ্ববিদ্যালয়)
হালিমা খাতুন মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র,খিরাটি
ডাঃ রওশন আরা হাসান নারি শিক্ষা কেন্দ্র,খিরাটি
ডঃএম এ হাসান মডেল স্কুল,খিরাটি
রাজধানী মহিলা কলেজ ,রূপনগর,মিরপুর,ঢাকা।

১৬/ সামাজিক কার্যক্রমঃ
অনন্ত নিবাস (কবরস্থান)খিরাটি৯দেয়াল ঘেরা সুরক্ষিত উচ্চভূমি এলাকা)
গ্রামিন আবাসন,খিরাটি(ভুমিহীনদের ভূমি বরাদ্ধসহ গৃহনির্মান প্রকল্প)
গরীবদের গাভী প্রদান প্রকল্পঃঅন্তত ১০টি+ গাভি প্রদান করা হয়েছে
নলকূপ প্রদান প্রকল্পঃঅন্তত ৩০টি নলকূপ প্রদান করা হয়েছে
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃসামাজিক কার্যক্রম সমূহ খিরাটি গ্রাম উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুসম্পন্ন করা হয়

১৭/ লার্নেড সোসাইটির সদস্যঃ
জীবন সদস্যঃ এশিয়াটিক সুসাইটি অব বাংলাদেশ
জীবন সদস্যঃ বাংলা একাডেমি
জীবন সদস্যঃ বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটি
জীবন সদস্যঃ বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব প্ল্যান্ট ট্যক্সোনমিষ্টস
জীবন সদস্যঃ বাংলাদেশ বিজ্ঞান উন্নয়ন সমিতি

১৮/ বিবিধ দায়িত্ব পালনঃ
সভাপতিঃ পরিচালনা পরিষদ, ডঃ এম এ হাসান মডেল স্কুল, খিরাটি
সহ-সভাপতিঃ খিরাটি সিনিয়র মাদ্রাসা
সহ সভাপতিঃ বাংলাদেশ এসসিয়েশন অব প্ল্যান্ট ট্যক্সোনমিষ্টস
প্রতিষ্ঠাতা সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, রাজধানী মহিলা কলেজ, রূপনগর, মিরপুর, ঢাকা
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা
সদস্যঃ হার্বাল ঔষধ এডভাইজারি কমিটি, ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
চিফ এডিটরঃ বাংলাদেশ জার্নাল অব প্ল্যান্ট ট্যাক্সোনমি

১৯/ পূর্বে যেসব দায়িত্ব পালন করেছেন
সভাপতিঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সভাপতিঃ পরিচালনা পরিষদ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,ঢাকা
সভাপতিঃ পরীক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক বোর্ড ঢাকা
সভাপতিঃ পরিচালনা পরিষদ,খিরাটি পূর্বপাড়া ডাঃ আব্দুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
সদস্যঃ ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি, ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় , গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
সদস্যঃ ঔষধি উদ্ভিদের চাষাবাদ, অভ্যন্তরিন ব্যবহার, রপ্তানি ও গবেষনা কার্যক্রম বিষয়ে গঠিত এডভাইজরি কমিটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
সদস্যঃ মেডিসিনাল প্ল্যান্তস ও হার্বাল প্রদাক্তস ইবিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বানিজ্য মন্ত্রণালয়
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, বঙ্গতাজ ডিগ্রী কলেজ, খিরাটি
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, মনোহরদী ডিগ্রী কলেজ,মনোহরদী
সদস্যঃ পরিচালনা পরিষদ, খিরাটি সিনিয়র মাদ্রাসা
হোমিওবিশেষজ্ঞঃ ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, বাঙ্গলাদেশ সরকার
এক্সিকিউটিভ এডিটরঃ বাংলাদেশ জার্নাল অব বোটানি
চিফ এডিটরঃ উদ্ভিদ বার্তা

২০/ গবেষনা কার্যক্রমঃ
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকদের জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান সৃষ্টি উওভয়বিধ কাজ করতে হয়। জ্ঞান সৃষ্ঠির জন্য তাই প্রয়োজনীয় গবেষনা  ও গবেষনার ফলাফল উপযুক্ত বিবেচিত হলে দেশি ও বিদেশি জার্নালে প্রকাশ করা হয়। ডক্টর মোহাম্মাদ আবুল হাসানের প্রকাশিত বই ও গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা একশতকের উপর
আন্তর্জাতিক মানের যেসব বিদেশি জার্নালে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর উল্লেখযগত্য কয়েকটি নিম্নরূপ
জার্মানি থেকে প্রকাশিত জার্নাল Planta Medica ও Pharmaze
জাপান থেকে প্রকাশিত জার্নালঃ Cytologia
লন্ডনের কিউ থেকে প্রকাশিতঃ IUCN এর Species
ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিতঃ Asian journal Of chemistry
আর্জেন্টিনা থেকে প্রকাশিতঃ Latin American Journal Of Pharmacy
হনোলুলু (USA) থেকে প্রকাশিতঃ Heliconia Society International-Bulletin
পাকিস্থান থেকে প্রকাশিত জার্নালঃ Hamdard Medicus
এছাড়া তাঁর তত্বাবধানে উপস্থাপিত একটি পিএইচডি থিসিসঃ Plant Genetic Resources Of rema kalenga Wildlife Sanctuary, Bangladesh রেফারেন্স বই হিসেবে সম্প্রতি জার্মানির Lamberd Academic Publishing Company প্রকাশ করেছে । এটি প্রমান করে অত্যন্ত সীমিত সুযোগ সুবিধা সংবলিত পরিবেশ গবেষণা করলেও বাংলাদেশকৃত এসব গবেষণা আন্তর্জাতিক মানের।

২১/ থিসিস তত্বাবধানঃ
প্রফেসর ডঃ মোঃ আবুল হাসানের তত্বাবধানে বহু গবেষক এম.এস; দুজন এমফিল এবং চারজন পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন এবং আরো পাঁচজন পিএইচডি প্রোগ্রামে গবেষণারত আছেন।
বিশেষ কথা
New York Academy of Sciences এর মেম্বারসীপ প্রদানের একটি রেপ্লিকা এবং American Biographical Institute এর একটি পত্র এখানে উপস্থাপন করা হলো তবে এর কোনটিই তিনি গ্রহণ করেননি
ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাঃ ডঃ মোহাম্মদ আবুল হাসান-এর সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সাময়িকী
আলোকিত খিরাটি-প্রকাশকাল-২০১১

Sunday, April 10, 2016

কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নে!!



কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের মুচিবাড়ী টু রায়েদ বাজার রোডের রায়েদ মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় ৯ এপ্রিল শনিবার রাত ১১:৩০ মিনিটের দিকে গুরুতর এক সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছে।প্রত্যক্ষ্যদর্শীর মাধ্যমে উক্ত ঘটনার সত্যতা ও বিবরণ kapasia Upazila পেইজের কাছে জানানো হয়েছে।উক্ত এলাকার প্রতিনিধির কাছ থেকে জানা গেছে দূর্ঘটনায় ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের নাম কালু মোড়ল,মুসলেউদ্দীন ও কাজীমুদ্দীন।সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাহ্য কমপ্লেক্স এ পাঠানো হলে এদের মধ্যে ২ জন কে উনন্ত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ট্রান্সফার করা হয়েছে।আহতরা সবাই রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন।
মূলত গাড়ির অতিরিক্ত গতি এবং রাস্তায় থাকা স্পিড ব্রেকারে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে এ দূর্ঘটনা ঘটেছে।যদিও স্পিড ব্রেকারটিতে রং করা ছিলো বলে জানা গেছে এক্ষেত্রে চালকের বেপরোয়া গতিই দূর্ঘটনার কারন !
বলে রাখা ভালো যে এ স্হানে এর আগেও বার বার দূর্ঘটনা ঘটেচে এবং একজনের প্রানহানী ও হয়েছিলো তখন অবশ্য স্পিড ব্রেকার ছিলো না চালকের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারনে প্রান হারাতে হয়েছিলো এক শিশুকে।কিন্তু এখন নিরাপত্তার কারনে দেওয়া স্পিড ব্রেকার আরো ভয়ংকর ও আতংক হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার মানুষের কাছে।
কাপাসিয়ার অনেক  রাস্তায় এরকম অনেক বিপদজনক স্পিড ব্রেকার আছে যার আশেপাশে সতর্কীকরণ কোন সাইন বোর্ড বা নোটিশ নেই এমনকি সতর্কীকরন রংও করা নেই সিপড ব্রেকার গুলোতে যার ফলে বার বারই এরকম দূর্ঘটনা ঘটছে।এলাকাবাসীর পক্ষ হতে কর্তৃপক্ষকে আকুল আবেদন জানাই অতি শিঘ্রই এর সুষ্ঠ ব্যবস্হা গ্রহন করার জন্য।
Kapasia Upazila Facebook page'র রায়েদ ইউনিয়ন প্রতিনিধি-মাসুদ পারভেজ

Wednesday, April 6, 2016

ফকির মজনু শাহ সেতুর ইতিহাস

ফকির মজনু শাহ সেতুর ইতিহাস
               :অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন: 

ফকির মজনু শাহ সেতু
 ফকির মজনু শাহ সেতু  গাজীপুর জেলার বৃহত্তম একটি সেতু।এটি কাপাসিয়ায় অবস্থিত। শীতলক্ষ্যা নদীর উপরে নির্মিত হয়েছে হেতু অনেকে এটাকে শীতলক্ষ্যা ব্রীজ বলে থাকেন।
১৯৯৭ সালের ৯ মে তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর উক্ত সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।যার দৈর্ঘ্য ৩৯০ দশমিক ৯১ মিটার ও প্রস্থ ১০ মিটার।সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ১৫ কোটি টাকা।
২০০৫ সালের ৩ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেতুটি উদ্বোধন করেন। সেতুটির মাধ্যমে ঢাকা-কাপাসিয়া-টোক-মঠখোলা-ইটাখোলা-কিশোরগঞ্জ তথা বৃহত্তর সিলেটের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

কে ছিলেন এই ফকির মজনু শাহ
বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় এক বিপ্লবী সেনানীর নাম ফকির মজনু শাহ্। আধ্যাত্মিক ও সুফী সাধক ফকির মজনু শাহ্ ছিলেন, পাক ভারতে ইতিহাস খ্যাত ফকির-সন্ন্যাসি আন্দোলনের মহা নায়ক । তাঁকে কেন্দ্র করেই ১৭৬০ থেকে ১৮০০ শতাব্দী পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪০ বছর ব্যাপী চলে ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলন।  ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বৃটিশ শাসন, শোষন, বঞ্চনার বিরুদ্ধে ও পরাধিনতার শিকল ভাঙ্গার র্দূবার ও অপ্রতিরোদ্ধ জিহাদে পরিনত হয় বাংলার জনপদ।
মীর জাফর আলী খান , উমিচাঁদ, রাজা রায়র্দূলভ, রাজা রাজ বল্লভ, মহা রাজা কৃষ্ণ, জগৎ শেঠ, ইয়ার লতিফ খান, খাদেম হোসেন আর ঘসেটি বেগমদের প্রসাদ ষড়যন্ত্রে পলাশীর প্রান্তরে বাংলা, বিহার, উরিষ্যার শেষ শ্বাধীন নবাব সিরাজ উদ-দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে এ জনপদের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী যখন অত্যাচারের ষ্ট্রিম রোলার চালিয়ে বৃটিশ শাসন সুদৃঢ করছিল , সেই সুচনা লগ্নে প্রতিরোধের দেয়াল রচনা করেছিলেন ফকির মজনু শাহ্। ফকির মজনু শাহ্’র নেতৃত্বাধীন ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একই সময়ে মহীশূর সুলতান হায়দার আলী, তার সুযোগ্য পুত্র টিপু সুলতান ইংরেজ বাহিনী অগ্রযাত্রা প্রতিরোধে সিংহ পুরুষের মত গর্জে উঠেছিল। পরবর্তীতে মাওলানা নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের ১৯২৫ সালে বারাসাত বিদ্রোহ ও ১৯৩১ সালে নারিকেল বাড়িয়ার বাঁশের কেল্লার প্রতিরোধ সংগ্রাম, হাজী শরীয়তুল্লাহ ও তার পুত্র মাওলানা নেসার উদ্দিন দুদু মিয়ার ফরায়েজি আন্দোলন, ১৮৫৭ সালের মহান সিপাহী বিপ্লব এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধের রক্তাক্ত সিড়ি বেয়ে আমরা পাই মহান শ্বাধীনতা, একটি শ্বাধীন দেশ, বাংলাদেশ।
মোঘল শাসনের শেষ দিকে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ন্যাসী ও ফকির সম্প্রদায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। কালক্রমে এই সন্নাসী ও ফকিরগন কারিগর ও কৃষকে পরিনত হয়। তবে কৃষকে পরিনত হলেও ফকিরগন রঙ্গিন আলখাল্লা এবং সন্ন্যাসীরা কোপীন পরিধান করত। এই ফকির ও সন্ন্যাসীদের একটি বড় অংশ ময়মনসিংহ, ভাওয়াল পরগনা ও উত্তরবঙ্গে বসবাস শুরু করে। উত্তর বঙ্গে বসবাসকারী ‘মাদারী’ সম্প্রদায়ভূক্ত ফকিরগন কৃষি কাজের পাশাপাশি দরগাহ্ ও তীর্থ ক্ষেত্র গুলোতে দল বেধে ঘুরে বেড়াত।
১৭৫৮ সালে ইংরেজ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী এই সন্ন্যাসী ও ফকিরদের তীর্থ ভ্রমন ও ধর্মানুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন  প্রকার কর ধার্য করতে থাকে। ১৭৫৮ সাল থেকে ১৭৬৩ সাল পর্যন্ত এই ৬ বছরে মুর্শিদাবাদের ক্ষমতাহীন নবাব এবং ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর উৎপিড়ন, শোষনে সাধারণ কৃষক, কারিগর ও ফকির সন্ন্যাসীগন সর্বশ্বান্ত-নিঃশ্ব হয়ে পড়ে।
এ সর্ম্পকে প্রখ্যাত ইংরেজ লেখক রেজিনাল্ড রেনল্ডস লিখেছেন, ‘‘ এই ছয় বছরের দুঃশাসনে জগৎবিখ্যাত মসলিনের কারিগরদের এক তৃতীয়াংশ  বনে-জঙ্গলে পলায়ন করেছিল।”
মসলিন কাপড়ের তুলা কার্পাসের জন্য বিখ্যাত গাজীপুরের কাপাসিয়া, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের অনেক কৃষক, কারিগর, ফকির-সন্ন্যাসীগন ভাওয়াল ও মধূপুরের বন জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল। ইংরেজ শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে নিস্পেষিত এসব কৃষক ও কারিগরগন ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেষ্টিংস এই কৃষক বিদ্রেুাহকে ‘‘ বহিরাগত ভ্রাম্যমান সন্ন্যাসী ও ফকির দস্যুদের বাংলাদেশ আক্রমন” বলে অভিহিত করলেও মূলত তা ছিল কারিগররুপি ফকির সন্ন্যাসীদের বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহীরা সশস্ত্র দলে সংঘটিত হয়ে ইংরেজ বনিকদের কুঠি-কাছারী এবং এদেশীয় তাদের দোসর দালাল জমিদারদের উপর উপর্যুপরি আক্রমন চালায়। বৃটিশ লেখক উইলিয়াম হান্টার তার এক গ্রন্থে বলেন, ‘‘এই কৃষক, কারিগর, ফকির সন্ন্যাসীদের  বিদ্রোহে উজ্জীবিত হয়ে মোঘল সাম্রাজ্যের ধবংস প্রাপ্ত সেনাবাহিনীর বেকার ও বুভুক্ষ সৈন্যগনও বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ গ্রহন করেছিল।’’
ডব্লিউ হান্টার এবং ও’ম্যাল বলেন, ‘‘ বিদ্রোহীদের সংখ্যা এক সময় ৫০ হাজারে উন্নীত হয়েছিল।’’ ঐতিহাসিক সুপ্রকাশ রায় তাঁর, ‘‘ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম (পৃষ্ঠা-২৪) পুস্তকে লিখেছেন, ‘‘ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের মূল নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন ফকির মজনু শাহ্ তার সহযোগি হিসাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, মুসা শাহ্, চেরাগ আলী শাহ্, সোবহান শাহ্, করিম শাহ্, মাদার বক্স, নুরুল মোহাম্মদ, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধূরানী, কৃপানাম, রামানন্দ ঘোসাই, পূতাশ্বর, অনুপম নারায়ণ, শ্রীনিবাস প্রমূখ ফকির-সন্ন্যাসী ও স্থানীয় প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ।’’
                        
১৭৬০ সালে বর্ধমান জেলার সন্ন্যাসীরা সর্ব প্রথম বৃটিশদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে। ১৭৬৩ সালে বিদ্রোহী ফকি গণ বাকেরগঞ্জ এবং ঢাকার ইংরেজ কুঠি আক্রমন করে দখল করে নেয়। ১৭৬৩ সালের মার্চ মাসে বিদ্রোহীরা রাজশাহী জেলার রামপুর-বোয়ালিয়ার ইংরেজ কুঠি আক্রমন ও লুন্ঠন করে। বিদ্রোহীরা কুঠির পরিচালক বেনেট সাহেবকে বন্দি করে পাটনায় এনে হত্যা করে। ১৭৬৬ সালে ৩০ অক্টোবর ফকির সন্ন্যাসী বাহিনী ইংরেজ ক্যাপ্টেন রেনেল ও মরিসনের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে পরাজিত করে কুচবিহার দিনহাটা এলাকায় তাদের  আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন।
১৭৬৭ সালে বিদ্রোহীরা পাটনার আশে-পাশে ইংরেজ সেনাবাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। ইতিহাসবিদ সুপ্রকাশ রায় তার বিখ্যাত গ্রন্থ ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম গ্রন্থে  বলেন, ‘‘১৭৭০ সালের ‘মহা র্দুভিক্ষ’ বা ‘ছিয়াত্তরের মনন্তরের’ ফলে ক্ষুধার জ্বালায় বাংলাদেশের হতভাগ্য কৃষকরা বিদ্রোহী ফকির সন্ন্যাসীদের সাথে বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে। ফলে ১৭৭০ থেকে ১৭৭২ সালে সমগ্র বাংলা ও বিহার অঞ্চলে ইংরেজ বিরোধী মহা বিদ্রোহের রনক্ষেত্রে পরিনত হয়।
১৭৭০ সাল থেকে ১৭৭১ সালে ফকির আন্দোলনের মহা নায়ক আধ্যাতিক ও সূফি সাধক ফকির মজনু শাহ্ সমগ্র উত্তর বঙ্গে বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর এলাকায় ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ সময় বিদ্রোহের মূল কেন্দ্র স্থল ছিল পাটনা ও উত্তর বঙ্গের মহাস্থান গড়। ১৭৭৩ সালের পর থেকে উত্তর বঙ্গের রংপুর জেলা ফকির সন্ন্যাসীদের আন্দোলনের প্রধান ঘাটিতে পরিনত হয়। এখান থেকে শ্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীরা দিনাজপুর ও বগুড়া অঞ্চলের জমিদারদের কাছারী ও ইংরেজদের নীল কুঠি গুলো আক্রমন ও লুন্ঠন করতে থাকে।
১৭৭২ সালের ৩০ ডিসেম্ভর বিদ্রোহীরা রংপুর শহরের নিকটবর্তী শ্যামপুরে ইংরেজ সেনাপতি টমাসকে সদলবলে হত্যা করে। ১৭৭৩ সালের ১ মার্চ বিদ্রোহীরা ময়মনসিংহ জেলার মধূপুরের জঙ্গলে সশস্ত্র যুদ্ধে ক্যাপ্টেন এডওয়ার্ডকে পরাজিত করে তার দলবল সহ নিহত করে।
১৭৮৬ সালের ২৯ ডিসেম্ভর বগুড়া জেলার কালেশ্বর নামক স্থানে ইংরেজদের সাথে সন্মূখ যুদ্ধে ফকির মজনু শাহ্ আহত হন। কিন্তু মজনু শাহ্ আহত হয়েছেন-এ সংবাদ গোপন রাখা হয়। অতঃপর ১৭৮৭ সালে গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য বিনা চিকিৎসায় ‘ফকির মজনু শাহ্’ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আপোষহীন ও বিপ্লবী নেতা আধ্যাতিক ও সূফি সাধক ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের বীর সেনানী ইংরেজদের মহা আতংক ফকির মজনু শাহ্ এর বর্নাঢ্য সংগ্রামী জীবন অবসানের পর তার সুযোগ্য শিষ্যগণ ১৮০০ সাল পর্যন্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন তথা  বিদ্রোহের আগুন অব্যাহত রাখেন।
ফকির মজনু শাহ্’র জন্ম স্থান নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও তার আন্দোলনের প্রধান ঘাটি ছিল বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভাওয়াল ও মধূপুর গড়। এসব অঞ্চল এখনও তার আন্দোলনের স্মৃতি বহন করে আছে। তার আন্দোলন ছিল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক। বৃটিশদের বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি, তখনই তিনি সিংহের মত গর্জে উঠে বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে মহা প্রতিরোধ রচনা করেছিলেন ফকির মজনু শাহ্’কে নিয়ে, তার আন্দোলন নিয়ে যতটুকু গবেষনা হওয়ার কথা তা আদো হয়নি। নতুন প্রজন্ম জানতে পারেনি এ বিপ্লবী শ্রমজীবী মানুষের সঠিক ইতিহাস।

 এ ব্যাপারে আমাদের উদাসিনতা দুঃখ জনক।  তার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য তারই অধ:স্তন বংশধর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ স ম হান্নান শাহ্ এর প্রচেষ্টায় গত চার দলীয় জোট সরকারের আমলে কাপাসিয়া শীতলক্ষ্যা নদীর উপর ‘ফকির মজনু শাহ্’ নামে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ফকির মজনু শাহ্’ নামের সেতুটি উদ্বোধণ করেছিলেন। ফকির মজনু শাহ্ নামের এ সেতুর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ফকির সন্ন্যাসী আন্দোলনের নেতা মজনু শাহ্ চির ভাস্বর হয়ে থাকবেন।