Friday, August 14, 2015

টোক ইউনিয়নের গ্রামের নাম ও সাধারন তথ্যাবলী

টোক ইউনিয়নের গ্রামের নাম ও সাধারণ তথ্যাবলী

এক নজরে
কালের স্বাক্ষী হয়ে তিন নদীর মোহনায় (শীতলক্ষ্যা, ব্রক্ষ্মপুত্র ও পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্র) দাড়িয়ে আছে কাপাসিয়া উপজেলার মধ্যে ২৪ টি গ্রামের সমন্বয়ে ৩ নং টোক ইউনিয়ন পরিষদ।
সাধারণ তথ্যাবলী

১) নাম - ৩ নং টোক ইউনিয়ন পরিষদ
২) আয়তন - ৩৮.৩৫ বর্গ কি: মি:
৩) লোকসংখ্যা - ৩৭,৬৬৯ জন
৪) গ্রাম সংখ্যা - ২৪ টি
৫) মৌজার সংখ্যা - ১৬ টি
৬) হাট/বাজার সংখ্যা - ১১ টি
৭) উপজেলা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা - 
৮) শিক্ষার হার -৪৪.০২%
৯) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় - ১৬ টি
১০) বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় - ৫টি
১১) উচ্চ বিদ্যালয় - ৭ টি
১২) মাদ্রাসা - ১০ টি
১৩) কলেজ - ১ টি
১৪) ইউনিয়ন পরিষদের জনবল
    নির্বাচিত পরিষদ সদস্য - ১৩ জন
    ইউনিয়ন পরিষদ সচিব - ১ জন
    গ্রাম পুলিশ - ৭ জন
১৫)গ্রামের নাম সমূহ 
 ১।উলুসারা
টোক নগর
৩।ঘোড়াদিয়া
৪।ভেংগুরদী
৫।পাকুরদিয়া
৬।ছাটারব
৭।বড়চালা
৮।কেন্দুয়াব
৯।বীর উজলী
১০।উজলী দিঘীর পাড়
১১।বড়দিয়া
১২।চেওরাইট
১৩।সালুয়াটেকী
১৪।ইসলামপুর
১৫।নয়ন বাজার
১৬।শহর টোক
১৭।সুলতানপুর
১৮।নয়াসাঙ্গুন
১৯।কাঁশেরা

২০।ডুমদিয়া

২১।ঘোষেরকান্দি
২২।আড়ালিয়া
২৩। পাঁচুয়া

২৪।দিঘাব

Wednesday, August 12, 2015

রায়েদ ইউনিয়নের গ্রামের নামসমূহ

রায়েদ ইউনিয়নের গ্রামের নামসমূহ
১।আমরাইদ
২।রাঘেরহাট
৩।মাতাবপুর
৪।বলাকোনা
৫।বড়হর
৬।বালুচড়া
৭।চকবড়হর
৮।মারুলিয়াপাড়া
বেলাশী
১০।তল্লাপাড়া
১১।ভূলেশ্বর
১২।হাইলজোর
১৩।কালডাইয়া
১৪।বিবাদিয়া
১৫।রায়েদ মধ্যপাড়া
১৬।রায়েদ পূর্বপাড়া
১৭।বড়াগারটেক
১৮।মামু-ভাগিনারটেক
১৯।আওলাব
২০।দরদরিয়া

২১।চৌড়াপাড়া
ছবি ক্রেডিটঃকাজী মাসুম ভাই

Tuesday, August 11, 2015

সিংহশ্রী ইউনিয়নের গ্রামের নাম ও সাধারণ তথ্যাবলী

সিংহশ্রী ইউনিয়নের গ্রামের নাম ও সাধারণ তথ্যাবলী

এক নজরে সিংহশ্রী ইউনিয়ন
           এক নজরে ইউনিয়ন
    সিংহশ্রী ইউনিয়ন শীতলক্ষা নদীর পুর্ব্ পার্শে ১৭ টি গ্রাম নিয়ে অবস্থিত । ঐতিহ্যও সুন্দর মনোরম পরিবেশে শোভা মান্ডিত এই ইউনিয়ন ।
এই ইউনিয়নের নিকটবর্তী  একটি ঐতিহ্য বাহী উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে ।উচ্চবিদ্যালয়টি ১৯৪৬ ইং সনে স্থাপিত হয়েছে ।এই বিদ্যালয়ে দশ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে । তৎকালীন সময়ের এক হিন্দু ভদ্রলোক শ্রী গয়াপ্রসাদ মিশ্র স্কুল নির্মান করার জন্য সম্পত্তি দান করেন ।

     ০১। আয়তন:-২৪.৪৫ বর্গ্ কি: মি:
     ০২। লোক সংখ্যা:-২৩২৫৫ জন
    ০৩। পুরুষ :- ১১৩৪৫ জন
 ০৪। মহিলা :- ১১৯১০ জন
০৫। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান:-২২ টি
০৬। উচ্চ বিদ্যালয়:-০৪ টি
০৭। প্রথমিক বিদ্যালয়:-১১ টি
০৮। মাদ্রাসা    :- ০৭ টি
০৯। শিক্ষার হার:-  ৬৫%
১০। মসজিদ:- ৫৫ টি
১১। মন্দির :-  ০৪ টি
১২। ব্যংক:-  ০১ টি
১৩। ডাকঘর:- ০৩ টি
১৪। গ্রামীন ব্যাংক:-০১ টি
১৫। এন জি ও:-    ০১
১৬। বীমা অফিস:-০২ টি
১৭। ঈদগাহ মাঠ:-১৩ টি
১৮। খেলার মাঠ:-০২ টি
   ১৯।স্বাস্থ্য কেন্দ্র:-০১ টি
   ২০।ওযার্ড্ ভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিক:-০৩ টি
   ২১। সরকারী ইজারা হাট/বাজার   ০২ টি
   ২২। ইজারা ব্যাতীত হাট/হাটবাজার  ০৭ টি

 গ্রামের নামসমূহ
০১সিংহশ্রী
০২।হাড়িয়াদী
০৩।পোনাশারী
০৪।কুড়িয়দী
০৫।নয়ানগর
০৬।বড়বেড়
০৭।ঝাউয়াদী
০৮। ভিটিপাড়া
০৯।কুলগংগা
১০।বড়বাড়ী
১১।বৈলারকান্দি
১২।ডুয়াইনগর
১৩।বড়িবাড়ী
১৪।সোহাগপুর
১৫।নামিলা
১৬।নরদা
১৭।কপালেশ্বর

Monday, August 10, 2015

আলহাজ্ব রেজাউল হক মহিলা কলেজ ২০১৫ সালের এইচ এস সি পরীক্ষায় ফলাফলে কাপাসিয়া উপজেলায় প্রথম


আলহাজ্ব রেজাউল হক মহিলা কলেজ
কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নে ঘাগটিয়া চালার বাজার এর সন্নিকটে অবস্থিত আলহাজ্ব রেজাউল হক মহিলা কলেজ ।যা ১৯৯৫ সালে স্থাপিত হয় এবং ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত হয়।  ২০১৫ সালের এইচ এস সি  পরীক্ষায় ফলাফলে কাপাসিয়া উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করায় জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন!উল্লেখ থাকে যে এইবার সহ এই কলেজটি তিনবার কাপাসিয়া উপজেলায় এইচ এস সি পরীক্ষার ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।এই কলেজটি বর্তমানে কাপাসিয়া উপজেলায় সুনামের সাথে এগিয়ে যাচ্ছে।কলেজের প্রতিষ্ঠাতার নামানুসারে কলেজটি নামকরন করা হয় ।কলেজটিতে ১৫ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক  ও দক্ষ পরিচালনা পরিষদ রয়েছে।কলেজটিতে রয়েছে একটি সু-বিশাল  ক্যাম্পাস, কম্পিউটার ল্যাব , গ্রন্থাগার ,১টি বিজ্ঞানাগার রয়েছে।এছাড়া ১ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সদ্যসমাপ্ত নতুন সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন ছাত্রীনিবাস নির্মিত হয়েছে যা ছাত্রীদের আবাসিক ব্যবস্থা নিশ্চয়তা প্রদান করে।পাশাপাশি রয়েছে অত্র ইউনিয়নের বঙ্গতাজ কলেজ এবং এম এ মজিদ বিজ্ঞান কলেজ যারা ঘাগটিয়া ইউনিয়নের জন্য সুখ্যাতি বয়ে এনেছে তাদেরকেও অভিনন্দন জানাচ্ছি।প্রত্যাশা রাখছি ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে ঈনশাল্লাহ
কাপাসিয়া উপজেলার ২০১৫ সালের এইচ এস সি পরীক্ষায় ৪টি কেন্দ্রের পাশের হারের উপর ভিত্তি করে মেধাক্রম:-


১। আলহাজ্ব রেজাউল হক মহিলা কলেজ ,ঘাগটিয়া
২। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ ডিগ্রি কলেজ
,হাইলজোড়
৩। তারাগঞ্জ স্কুল & কলেজ
,তারাগঞ্জ
৪। বঙ্গতাজ কলেজ,খিরাটি
৫। কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ,কাপাসিয়া
৬। শরীফ মোমতাজ উদ্দিন কলেজ,টোক
৭। এম এ মজিদ বিজ্ঞান কলেজ,খিরাটি।


কাপাসিয়া অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ

কাপাসিয়ার ধারাবাহিক ইতিহাস : পর্ব-২

অধ্যাপক শামসুল হুদা লিটন

Biggapon Channel-2প্রকৃতির দুর্ঘটনাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Natural Disaster)। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রকৃতির খুব স্বাভাবিক রুটিন হলেও আমাদের কাছে সাধারণ না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বাংলাদেশ প্রতি বছরই বিরাট ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তার উপরে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি, যার অনেকটাই এখন বাস্তব। ফলাফল হিসেবে আমরা গত দু’দশকের দুর্যোগের যথেষ্ট চারিত্রিক পরিবর্তন লক্ষ করছি। দুর্যোগগুলো এখন অনেক ঘন ঘন, অনেক বেশি শক্তিসম্পন্ন আর অনেক বেশি অনির্দিষ্ট। ফলশ্রুতিতে এখন আমরা আরো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিগত যে কোনো সময়ের তুলনায়। তদুপরি, যে কোনো দুর্যোগ আমাদের উন্নয়নের অগ্রগতি, পরিকল্পনা আর বিনিয়োগকে প্রচন্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। আর বাংলাদেশের মত সীমীত আয়ের দেশগুলো তো দুর্যোগের কারনেই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছেনা। বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বা অঞ্চল হচ্ছে কাপাসিয়া, যেখানকার দুর্ভিক্ষ, মহামারি, বন্যা, ঘুর্নিঝড়, ভূমিকম্প, ভূমি ধসের  ঘটনা বহুকাল ধরে স্মরণীয় হয়ে আছে। বংশ পরম্পরায় এসব স্মরণীয় অনেক ঘটনা এখনো লোকমুখে টিকে আছে। অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা পরিণত হয়েছে রূপকথার গল্পে। যুগ যুগ ধরে কাপাসিয়ার মানুষের কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত কতিপয় ঘটনা রয়েছে,  যেমন:-
দুর্ভিক্ষ/দূর্ভিক্ষ  : ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বাংলার তথা ভারতের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত। ১১৭৬ বঙ্গাব্দে ( খ্রি. ১৭৭০) এই দুর্ভিক্ষ হয়েছিল বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়। এই মন্বন্তরের ভয়ংকর থাবা থেকে বাদ যায়নি কাপাসিয়া। এদেশে দুর্ভিক্ষের কথা জানা যায় মূঘল শাসন আমল থেকে। সুবেদার মীর জুমলার সময় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে বহু মানুষ মারা যায়। এ দুর্ভিক্ষের স্থায়ীত্ব কাল ছিল ২ বছর।  দুর্ভিক্ষের ঢেউ লেগে ছিল কাপাসিয় সহ ভাওয়াল পরগণায়।
বৃটিশ শাসন আমলে বহুবার এ জনপদে দুর্ভিক্ষ ও মহামারি দেখা দিয়েছিল। ১৭৬৯ থেকে ১৭৭০, ১৭৮১ থেকে ১৭৮৪, ১৭৮৭ থেকে ১৭৮৮, ১৯০৬, ১৯৭৪ সালে এ অঞ্চলে দেখা দিয়ে ছিল ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। বিশেষ করে ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ ও মহামারিতে কাপাসিয়ার অনেক লোক মারা যায়। ১৩৫০ বঙ্গাব্দ বা ১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, তা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। ইংরেজ সরকারের কিছু বিতর্কিত নীতি এবং উদাসীনতার কারণে এই দুর্ভিক্ষ ত্বরান্বিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান বার্মা দখল করে নিলে বার্মা থেকে বাংলায় চাল আমদানী বন্ধ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। অনুমান করা হয় এই দুর্ভিক্ষে বাংলায় প্রায় ৫০ লক্ষ লোক মারা যায়। পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময় চালের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে দশগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময় দেশি চাল ৬ টাকা মণ হতে ৬০-৭০ টাকা মণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। তৎকালীন সারা বৃটিশ ভারতে এ দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল। মানুষ-কুকুর-কাক ডাষ্টবিনের খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করেছিল। এখানে সেখানে পড়েছিল কঙ্কালসাড় মানুষ ও মৃত মানুষের লাশ। জীব-জন্তু, পশু-পাখি, গাছপালার মাঝেও দেখা দিয়েছিল বিরূপ প্রভাব। ভারত বর্ষে ১৯৪৩ সালের  এ দুর্ভিক্ষের ছবি এঁকে সারা বিশ্বের কাছে খ্যাত হয়েছিলেন চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদীন।
প্রতীকি ছবি
১৭৮১ সালের দুর্ভিক্ষের সময় মানুষ গাছের ছাল, পাতা ও জলজ উদ্ভিদের শিকড় পর্যন্ত  খেয়ে জীবন ধারণ করেছে বলে লোকমুখে জানা যায়। অনাহারে, অর্ধাহারে, খেয়ে না খেয়ে, রোগে-শোকে মারা গেছে অসংখ্য মানুষ।
১৭৮৭-১৭৮৮ সালে ভূমিকম্প ও বন্যার ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে কয়েক হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যায়।  ১৭৮৭-১৭৮৮ সালের দুর্ভিক্ষের সময় কার্পাস তুলার তৈরী বিখ্যাত মসলিন কাপড়ের বুনন শিল্পী-কারিগর, তাঁতী, কুমার, জেলে সম্প্রদায়ের অসংখ্য লোক মৃত্যুবরণ করে ছিলেন। সে সময় ইতিহাস খ্যাত মসলিন ও মৃৎশিল্প প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। অনাবৃষ্টি, প্রচন্ড খড়া ও তাপদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। পুকুর ও কুপের পানি শুকিয়ে যায়। খবার পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। শোনা যায়, সে সময় সূর্যের তাপে গাছের শুকনো পাতায় আগুন পর্যন্ত ধরে গিয়েছিল। সর্বশেষ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় চাল, ডাল, লবণ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্য মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। মা্নুষকে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে। ভাতের মার ও আটার জাও খেতে হয়েছে অনেককে। যেতে হয়েছে লঙ্গর খানায়।
খরা, বন্যা, ঝড়, ঘুর্নিঝড়, টাইফুন,টর্নেডো : কাপাসিয়া অঞ্চল বহুবার বিভিন্নরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে। বিশেষ করে খরা (ভিন্ন বানান খড়া), বন্যা, ঝড়, তুফান, ঘুর্নিঝড় (ঘূর্ণিঝড়), ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প, টাইফুন বা সাইক্লোন, টর্নেডো বন্যা, ঝড়, তুফান, ঘুর্নিঝড়(ঘূর্ণিঝড়), ভূমিধ্বস, ভূমিকম্প, টাইফুন বা সাইক্লোন, টর্নেডো এই প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর সঙ্গে এখানকার অধিবাসীরা বেশি পরিচিত। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলা বা উপজেলার তুলনায় কাপাসিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কম। সাধারণতঃ  দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল বা পুরো দেশ বন্যায় প্লাবিত হওয়ার সময় কাপাসিয়ায়ও বন্যা দেখা দেয়। দেশের বন্যা কবলিত অন্যান্য অঞ্চলের ন্যায় কাপাসিয়ার নীচু চর অঞ্চল বন্যার পানিতে অসংখ্য বার ডুবে যায়। বন্যার ফলে অনেক মাটির তৈরী ঘর ধ্বসে যায়। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যা পরবর্তী সময়ে দেখা দেয় ডায়রিয়া, জন্ডিস সহ পানিবাহিত নানা রোগ। বন্যায় ফসলের  ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ফলে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ। ঢাকা জেলায় ১৭৮৭-১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ভয়াবহ বন্যা হয়ে ছিল বলে জানা যায়। এ বন্যা সম্পর্কে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ যতীন্দ্র মোহন রায় রচিত, ‘ঢাকার ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। ১৭৮৭-১৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল সে সম্পর্কে মিষ্টার টেইলর তাঁর ‘টপোগ্রাফি অব ঢাকা’ গ্রন্থে সুন্দর বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেছেন, “বন্যার স্রোতে শস্যাদি, দ্রব্যাদি ও পশুসম্পদ ধ্বংসের মুখে পতিত হলো। মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হলো। সমগ্র অঞ্চল জনশূণ্য হয়ে পড়লো। ভূমি চাষের জন্যে লোকের অভাব দেখা দিলে প্রায় জমিই অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রইল।”
এই বন্যার কারণে দেশে চরম দুর্ভিক্ষ মহামারি দেখা দিয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ বন্যা ও দুর্ভিক্ষে মারা গিয়েছিল। ঢাকা জেলার অংশ হিসেবে ভাওয়াল অঞ্চল তথা কাপাসিয়ায়ও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছিল বলে জানা যায়।
খাল-বিল, নদী-নালা বেষ্টিত কাপাসিয়া অঞ্চলে বহুবার বন্যা ও প্লাবন হয়েছে। স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৫৪, ১৯৫৫, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭৪ সালে কাপাসিয়ায় ব্যাপক বন্যা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর এ অঞ্চলে ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪ সালে ভয়াবহ বন্যা হয়। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল গত কয়েক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী। ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায়  বিভিন্ন গ্রামের বহু কাঁচা ঘর-বাড়ি ধ্বংস হয়। পশুসম্পদ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। দেখা দেয় নদী ভাঙ্গন। রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে যায়। অনেক চর ও নীচু অঞ্চলের মানুষ বাড়ি-ঘর ছেড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়। এ বন্যার সময় নিহত মানুষগুলোর মধ্যে কারো কারো কবর হয়েছে রাস্তায়, যা এখনো দেখা যায়।
Image0208
ঝড়ের কবলে রাউৎকোনা ফাজিল মাদরাসা -২০১৫
ফি বছর কাপাসিয়ার উপর দিয়ে একাধিকবার প্রবল বেগে ঝড়-তুফান, ঘুর্নিঝড়, কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এছাড়া টাইফুন বা সাইক্লোন, টর্নেডো মতো শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগও মাঝেমধ্যে দেখা দেয়। এতে করে কাপাসিয়ার অনেক গ্রাম লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। মানুষ হারায় নিরাপদ আশ্রয়। ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়। কাপাসিয়ায় ঘুর্নিঝড়ের মধ্যে ১৯৬১, ১৯৬৫, ১৯৬৯-১৯৭০, ১৯৯১ সালের ঘুর্নিঝড় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তবে এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাপাসিয়ায় কত লোকের প্রাণহানি হয়েছে কিংবা কী পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে তার সঠিক হিসাব জানা যায়নি।
Biggapon Channel.jpg-1
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেজাউল হক বিএম কলেজ-২০১৫
২০০৩ সালে উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের কামারগাঁও গ্রামসহ আশ-পাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে রাতে ভয়াবহ ঘুর্নিঝড় বয়ে যায়। আধা ঘন্টা স্থায়ী এ ভয়াবহ ঘুর্নিঝড়ে গভীর নলকুপ ছিড়ে নিয়ে যায়, ঘরের টিলের চাল, আসবাব ও বিছানাপত্র বহু দূর পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যায়। ২০১৪ সালে উপজেলার বারিষাব ইউনিয়ন, ২০১৫ সালের বৈশাখে টোক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুর্নিঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঝড়ে উচুঁ গাছের ডালে আটকে থাকে টিনের চাল। পানের বরজ, ঘর-বাড়ি, পোল্ট্রিফার্ম, বাজারের দোকান-পাট উপড়ে ফেলে। ভেঙ্গে ফেলে গাছপালা। বসত ঘরের সাথে বহু স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা ভবনও মাটির সাথে মিশে যায়।
বজ্রপাত বা বাজ পড়া : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বজ্রপাত বা বাজ পড়া প্রকৃতির রুটিন কাজ বলা যায়। প্রতি বছরই কাপাসিয়া এলাকায় বজ্রপাতে’লোকের প্রাণহানি, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, গবাদিপশুর প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি হয়। উপজেলার সনমানিয়া, চর মনোহরদী, বারিষাব, লোহাদী, পাঁচুয়া, বাড়ৈগাঁও, রাওনাট গ্রামসহ অনেক গ্রামেই বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া যায়। এ সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত সহ প্রচন্ড শক্তিসম্পন্ন দমকা হাওয়া বয়ে যায় এবং বজ্র বিদ্যুৎ চমকায়। অনেক সময় এই অঞ্চলে বিনা ঝড়-তুফান-বৃষ্টিতে বজ্রপাত হয় বলে জানা গেছে। দিন দিন বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বজ্রপাতে টেলিভিশন, ফ্রিজসহ ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতির ক্ষতি হচ্ছে। অনেকের ধারণা, বৃটিশ আমলে স্থাপিত সীমানা পিলার চুরি হয়ে যাওয়ায় আগের চেয়ে বেশি বজ্রপাত বেশি হচ্ছে। বজ্রপাতের সাথে শীলা বৃষ্টিতে ফল-ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্চে।
নদীভাঙন : কাপাসিয়া উপজেলার প্রায় সব অঞ্চলই নদ-নদীতে ঘেরা। যার ফলে নদীভাঙন এখানে কল্পকাহিনী নয়। সাধারণত: বর্ষা মৌসমে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তবে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় কাপাসিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় যেভাবে নদ-নদী  ভেঙ্গেছে, তা আজো কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে বারিষাব-নোয়াকান্দি সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙন পর্যটকদের খোরাক হয়েছ। এছাড়া শীতলক্ষ্যা কড়াল গ্রাসে ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তারাগঞ্জ স্কুল ও তারাগঞ্জ বাজার নদীর গর্ভে  প্রায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্কুল পশ্চিম পার্শ্বে  সরিয়ে নেয়া হয়। শীতলক্ষ্যা  নদীর দু’পাড়ের অনেক গ্রাম নদী ভাঙনের শিকার হয়। উপজেলার একডালা, ঘিঘাট, চাঁপাত, সাফাইশ্রী, বলদা, কাপাসিয়া বাজার, কাপাসিয়া পাইলট স্কুল, নারায়নপুর, ইকুরিয়া, তরগাঁও, বাঘিয়া, দরদরিয়া, সিংহস্রী, টোকা এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হয়। এভাবে ভাঙতে ভাঙতে কাপাসিয়ার অধিকাংশ নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ইতোমধ্যে ভরাট হয়ে গেছে। যতটুকু অবশিষ্ট আছে, তাও নানা কারণে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ‘নদীভাঙন’ শব্দটি নদী ভাঙন, নদী ভাঙ্গন, নদী ভাংগন, নদী ভাঙগন ইত্যাদি আকারেও লেখা হয়। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে এখনো কাপাসিয়ার অনেক এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
আর্সেনিক : একটি মৌলিক পদার্থের নাম আর্সেনিক(Arsenic), যার রাসায়নিক সংকেত As এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩। কাপাসিয়া উপজেলার অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঞ্চলে খাবার পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত হার প্রমাণিত হয়েছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। পানিতে স্বল্প মাত্রায় আর্সেনিক সব সময়ই থাকে। কিন্ত‌ু যখনই এই মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়ে যায়, তখনই তা পানকারীর শরীরের নানা রকম রোগের উপসর্গ তৈরি করে এবং পরবর্তীতে সেই সকল রোগব্যাধিকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুও হতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম আর্সেনিক দূষণের শিকার এবং বহু সংখ্যক নলকূপের পানিতে বাংলাদেশের মানের চেয়ে বেশি মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। দিনে দিনে তা ব্যাপক আকার ধারণ করে চলেছে। উপজেলায় গত ১০ বছরে অন্তত: ৩ জন আর্সেনিক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
Biggapon Channel-4
ভূমিকম্প : কাপাসিয়ার ভূমিকম্প, ভূমিধস ও ভূমি ফাটল বিচ্ছিন্ন কোনো ইতিহাস নয়। এগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসেরই অংশবিশেষ। এক সময় কাপাসিয়া ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখনকার এক ভূমিকম্পের ভয়াল চিত্র আজো আমাদের পীড়া দেয়। সেই দিনের ভূমিকম্প নিয়ে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ যতীন্দ্র মোহন রায় তাঁর ‘ঢাকার ইতিহাস’- গ্রন্থে লিখেছেন, “১৮৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ১২ জুন তারিখের ভূমিকম্পে জেলার উত্তরাংশের অনেক খাল-বিলের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। বহু ভবন, ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। ভূ-কম্পনের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহের রেল লাইন ভেঙ্গে গিয়েছিল।” জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীতে এক ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কাপাসিয়ার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদটি ভরাট হয়ে যায় এবংনদটিতে চর জেগে উঠে। ১৯০১ সালেও অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল। সে ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের গতি পরিবর্তন হয় বলে জানা যায়। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদটি মরা ও সরু খালে পরিণত হওয়ার ঘটনা ভূকম্পনের কথাই মনে করিয়ে দেয়। বাংলা ১১৩৮, ১১৮১, ১২১৮, ১২৫৩, ১২৫৭, ১২৫৯, ১২৭০, ১২৭৮, ১২৯৭ সনে এ অঞ্চলে ভূকম্পন হয়েছিল বলে জানাযায়। তন্মধ্যে ১১৮১ ও ১২১৮ সনের ভূমি কম্পন ছিল খুবই শক্তিশালী। ইংরেজি ১৭৬২, ১৭৭৫, ১৭৮৭, ১৮১২, ১৮৭৬, ১৮৮৭, ১৮৯৭ সালে এ অঞ্চলে ব্যাপক ভূমি কম্পন হয়েছিল।
২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরের তলদেশে আঘাত হানা সুনামিতে দুলাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। সুনামিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলো ইন্দোনেশিয়ার আচেহ্ প্রদেশে। আচেহ প্রদেশের রাজধানী বান্দা আচেহ সেই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও জলোচ্ছাসে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। স্মরণকলের এই ভয়াবহ সুনামির ব্যাপক প্রভাব পড়ে ছিল কাপাসিয়া উপজেলার সর্বত্র। ওই সুনামির ফলে কাপাসিয়ার খাল-বিল, নদী-নালার পানি হঠাৎ উপরে ফুসে গিয়েছিল। পাড়ে আচড়ে পড়েছিল পুকুর-ডোবার পানি। লাফিয়ে উঠে ছিল মাছ। ভয় ও অাতংকে কিংকর্তব্যবিমোঢ় হয়ে পড়েছিল মানুষ।
ভূমিকম্পের সংজ্ঞাটা অনেকের জানা না থাকলেও, ভূ-পৃষ্ঠ কেঁপে উঠলে ভূমিকম্প হয়েছে, এটা সবাই বুঝেন। সাধারণভাবে বলা যায়, ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষনিকের জন্য কেঁপে উঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়; এরূপ আকস্মিক ও ক্ষনস্থায়ী কম্পনকে ভূমিকম্প (Earthquake) বলা হয়। কম্পন-তরঙ্গ থেকে যে শক্তির সৃষ্টি হয়, তা ভূমিকম্পের মধ্যমে প্রকাশ পায়। এই তরঙ্গ ভূ-গর্ভের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে উৎপন্ন হয় এবং উৎসস্থল থেকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্প সাধারণতঃ কয়েক সেকেণ্ড থেকে এক/দু-মিনিট স্থায়ী হয়। মাঝে মাঝে কম্পন এত দূর্বল হয়, তা অনুভব করা যায় না। কিন্তু শক্তিশালি ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে ঘর-বাড়ি ও ধন-সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটে।  ‘ভূমিকম্প’ শব্দটিকে আজকাল কেউ কেউ ‘ভুমিকম্প’ লেখেন। ভূকম্পন, ভূ-কম্পন, ভুকম্পন, ভুমিকম্পন, ভূমিকম্পন, ভুমি কম্পন, ভূমি কম্পন এই শব্দগুলির অর্থ একই, পার্থক্য কেবল বানানে।
এদিকে, চলতি বছর (২০১৫ সালের) ২৫ এপ্রিল শনিবার ভূকম্পনে কেঁপে উঠে গোটা উপমহাদেশ৷ভূমিকম্পের উৎসস্থল নেপাল৷রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭.৯৷ বিগত ৮০ বছরের মধ্যে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত দেশগুলিতে এটিই সব চেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প৷এতে করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে দশ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। গোটা কাঠমান্ডু শহরটাই পরিণত হয় ধ্বংসস্তুপে।
রাজধানী সহ সারা দেশের ন্যায় কাপাসিয়ার সর্বত্র ওই দিন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে হঠাৎ প্রচন্ড ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, হাট-বাজার, অফিস পাড়ায় তাৎক্ষনিক ভাবে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। যে যখন টের পেয়েছে একবারের জন্য হলেও নড়েচড়ে বসেছে। কাপাসিয়া শহরের মেইন রোডের বড়-বড় ভবন বা বিপনী বিতানে অবস্থানরত লোকজন আংতকে রাস্তায় নেমে আসে এবং দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। এ সময় দেখা যায় বিদ্যুতের তার এবং খুটিতে লাগানো ট্রান্সমিটার অনবরত নড়ছে। নদী, পুকুর ও ডোবার পানি এদিক-সেদিক দোলছে। কোথাও-কোথাও মাছের খামারের মাছ গুলো পানির উপরে  লাফাচ্ছিল।
কাপাসিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লাস করার সময় তাদের মাঝে ভূ-কম্পন অনুভূত হলে আতংকে ছুটাছুটি ও মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গিয়ে অন্তত পক্ষে ১৮ জন এবং বীর উজলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ২ ছাত্রী পড়ে গিয়ে আহত হয়। ভুমি কম্পনের সময় কাপাসিয়া থানায় অবস্থানরত সকল পুলিশ ও কর্মচারীবৃন্দ আতংকে ভবন ছেড়ে দ্রুত খোলা মাঠে বেরিয়ে আসে।  মানুষ ভয়ে ঘর-বাড়ি বাইরে বেরিয়ে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক শ্রেণি কক্ষ ছেড়ে চলে আসে খোলা মাঠে। তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অনেকেই আহত হয় এবং ভয় ও আতংকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
Biggapon Channel-2
ভূমিধস : বাংলাদেশে প্রাণঘাতি দুর্যোগগুলোর মধ্যে আশংকাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ভূমি ধসকে। ভূমি ধসে মূলতঃ ভূমির ব্যাপক উলোট পালোট হয়ে থাকে। এর ফলে একটি বিস্তৃত এলাকার পাথর, গাছপালা ও মাটি উপর থেকে ধসে পড়ে আবার অনেক সময় মাটি নীচে দেবেও যায়। এছাড়াও অনেক সময় পাহাড় বা উচু স্থানের উপর থেকে পানি ও মাটি মিশে কাদা আকারে বিপুল পরিমাণে নীচে নেমে আসলে তাকেও এক ধরনের ভূমি ধস আখ্যা দেয়া হয়। অনেক কারণ রয়েছে যেগুলো একটি এলাকাকে ভূমি ধস প্রবণ করে তুলতে পারে এবং কেড়ে নিতে পারে মানুষের জীবন ও সম্পদ। ‘ভূমি ধস’-এর ইংরেজি Landslide, বাংলায় যার প্রচলিত অন্যান্য বানানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভূমি ধ্বস, ভুমি ধ্বস, ভুমি ধস, ভূমিধস, ভূমিধ্বস, ভুমিধ্বস, ভুমিধস।
কাপাসিয়া উপজেলায় ভূমি ধস ও ফাটলের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দশ বছর আগে ১৯৬২ সালে উপজেলা সদরইউনিয়নের দস্যুনারায়ণপুর গ্রামে বড় মাপের ভূমি ধস হয়। তারপর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় আরো কিছু ভূমি ধসের ঘটনা ঘটে। তবে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে নারায়নপুর বাজার সংলগ্ন দাস পাড়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে প্রভাতে আকস্মিক ভূমি ধসের ঘটনা দেশ ব্যাপি তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। তখন ওই পাড়ার সংলগ্ন বিশাল এলাকা ২৫-৩০ ফুট নীচে দেবে গিয়েছিল। এতে বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এ ভূমি ধস দেখার জন্য দেশ-বিদেশের অনেক সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের কয়েকজন অধ্যাপক, গবেষক, ভূগোলবিদ, প্রত্মতত্ববিদ ও সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে ছুটেে আসে। তাঁরা অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনকে কাপাসিয়ার নদ-নদীর আশপাশে ভূমি ধসের কারণ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়াও এ ভূমি ধসের কিছু মানব সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে বলে জানা যায়।
ওই ঘটনার দশ বছর পর ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে আবারো দস্যুনারায়ণপুর গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ফের ২ হাজার বর্গমিটার ভূমি দেবে যায় এবং অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। প্রায় ৩শ’ ফুট দীর্ঘ ও স্থান ভেদে ১৫ থেকে ২০ ফুট চওড়া হয়ে প্রায় ৩০ ফুট নীচে ভূমি দেবে পার্শ্বের শীতলক্ষ্যা নদীর দিকে চলে যায়। বৃহৎ আকার মাটির খন্ডগুলোতে কাঁঠাল, আম, বাঁশ ও অন্যান্য গাছ নদীতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে এবং কিছু জায়গা নদীতে ধসে যায়।
ভূমি ফাটল: কাপাসিয়া অঞ্চলের ভূ-পৃষ্ঠ ফাটলের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ভূমি ফাটল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ২০১৩ সালে হঠাৎ করে উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের রায়েদ এলাকায় মাটি দেবে যায় ও ফাটল দেখা দেয় ৩ কিলোমিটার জুড়ে। ২ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত মাটি দেবে গিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয় আতংক। রায়েদ পূর্ব পাড়া থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত মাটি সর্বোচ্চ ফাঁক হয়ে যায়। মাটি দেবে যাওয়া ও ফাটলের ফলে বিপুল সংখ্যক ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলার রাওনাট, দড়িনাশেরা এলাকায় বড় ধরণের ভূমি ফাটলের ঘটনা ঘটে। দড়িনাশেরা গ্রামের মাস্টার জহিরুল হকের বাড়ি সংলগ্ন বিশাল ভূমি ফাটলের অংশে কান পাতলে পানি প্রবাহের শব্দ শোনা যায়। ভূমি ফাটলের ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে ভয় ও আতংক বিরাজ করে। উৎসুক মানুষ ফাটল দেখার জন্য ঘটনাস্থলে ভীড় জমায়।
বৃক্ষ নিধন, খাল-বিল, নদী-নালা ভরাট হয়ে যাওয়া সহ নানা কারনে কাপাসিয়াও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সূর্যের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ষড়ঋতুর পরিবর্তে গ্রীষ্ম ও শীত এই দুই ঋতুই প্রধানতঃ লক্ষণীয় হয়ে উঠছে। কাপাসিয়ায় প্রকৃতি রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যেোগ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
পরবর্তী প্রতিবেদন : কাপাসিয়ার লোকসংস্কৃতি, লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কার

গাজীপুর জেলা পরিষদ

জেলা পরিষদ গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

১৮১৬ এবং ১৮১৯ সালের স্থানীয়ভাবে ফেরী ব্যবস্থাপনা ও রক্ষনাবেক্ষণ,সড়ক/ সেতু নির্মাণ ও মেরামতের জন্য বৃটিশ সরকার কর্তৃক কর ধার্যের আইন প্রণীত হয়। ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর দেশের অর্থনীতি ও আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে বৃটিশ সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এবং ১৮৭০ সালে বেঙ্গল চৌকিদারী আইন প্রণয়ন করে।
১৮৭০ সালে গ্রাম চৌকিদারী আইন পাশের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে এক স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। ১৮১৭ সনে তৎকালীন বৃটিশ লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে জিলা বোর্ড সেস কমিটি বিল উত্থাপিত হয় এবং ঐ বছরেই তা আইনে পরিণত হয়। এ আইনের অধীন প্রতিটি জেলায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে জেলা বোর্ড সেস কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি প্রধান কাজ ছিল করের হার নির্ধারণ,কর আদায় এবং রাস্ত্মাঘাট নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় মেরামত কাজে অর্থ ব্যয় করা। ১৮৭১ সালে দশম বেঙ্গল এ্যাক্ট এর অধীনে একটি রোড কমিটি গঠিত হয়। ১৮৭১ সাল হতে ১৮৮৫ সাল পর্যন্ত্ম এ কমিটির অস্ত্মিত্ত্ব ছিল। স্থানীয় সরকার গঠনের এটিই ছিল প্রাথমিক পদক্ষেপ।
সেস কমিটির অভিজ্ঞতার আলোকে ১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট প্রণীত হয় এবং রোড সেস কমিটির বদলে জেলা বোর্ডের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সরকার গঠনে এ এ্যাক্টই উপমহাদেশে যুগান্তকারী অবদান রাখে।
১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্ট বলে তৎকালীন বাংলায় ১৬টি জেলায় বিভিন্ন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড গঠিত হয়। ঢাকা,চব্বিশ পরগনা,নদীয়া,মুর্শিদাবাদ,যশোর,খুলনা,হুগলী,হাওড়া,বর্ধমান,মেদিনীপুর,বাঁকুড়া,বীরভূম,ফরিদপুর,পাবনা ও পাটনা। ১৮৮৬ সালের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত্ম ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট পদাধিকার বলে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হতেন। ১৯৩৬ সনে লোকাল লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট এ্যাক্ট এর সংশোধিত আইনে লোকাল বোর্ডের বিলুপ্তি ঘটে। পরবর্তী পর্যায়ে নির্বচিত চেয়ারম্যান নিযুক্তির মাধ্যমে ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড জনপ্রতিনিধিত্বশীল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপলাভ করে এবং এ ধারা ১৯৫৭ সন পর্যন্ত্ম বলবৎ থাকে।

১৯৫৯ সনে মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের অধীন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডকে নতুন আঙ্গিকে পরিণত করে। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল নামকরন করা হয়। এ ব্যবস্থায় ১৯৬৩ সালে জেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন হয়। দ্বিতীয় এবং সর্বশেষ ১৯৬৬ সনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর স্বাধীনতা পরবর্তী কালে ১৯৭২ সনে নির্বাচিত পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেলা প্রশাসককে এর প্রশাসক করে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের যাবতীয় কার্যাবলী পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা অর্পণ করা হয় এবং ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের স্থলে জেলা বোর্ড নামকরণ করা হয়। ১৯৭৬ সনের স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারী করা হয় এবং জেলা বোর্ডের নামকরন করা হয় জেলা পরিষদ স্থানীয় সরকার (জেলা পরিষদ) আইন,১৯৮৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী প্রতিনিধি সদস্য,মনোনীত সদস্য,মহিলা সদস্য এবং কর্মকর্তা সদস্যগনের সমন্বয়ে জেলা পরিষদ গঠন করা হয়।
১৯৮৮ সালে গাজীপুর জেলা বোর্ড গঠিত হয়।
জেলা পরিষদ আইন,২০০০ এ পরোক্ষনির্বাচন পদ্ধতিতে ০১ (এক) জন চেয়ারম্যান,১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের ০৫ (পাঁচ) জন মহিলা সদস্য সমন্বয়ে পরিষদ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

জেলা পরিষদ আইনে উপ-সচিব পদমর্যাদার একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সচিব প্রেষনে পরিষদে ন্যস্ত রাখার বিধান আছে। জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় তার অনুপস্থিতিতে স্থানীয় সরকার কর্তৃক জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতেন।


বর্তমানে স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখার প্রজ্ঞাপন নং ৪৬.০৪২.০৩৩.০৩.০০. ১৪৭.২০১১-৪১৭৩,তারিখ ১৫-১২-২০১১খ্রিঃ জারী হওয়ায় জেলা পরিষদ আইন ২০০০ এর (৮২) ধারা মোতাবেক জেলা পরিষদ সমুহে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত প্রশাসকগন জেলা পরিষদের কার্যাবলী সম্পাদন করবেন।

বারিষাব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত গ্রামের নামসমূহ

বারিষাব ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত গ্রামের নামসমূহ

বারিষাব ইউনিয়নের গ্রামের নামসমূহ ও সাধারণ তথ্যাবলী

এক নজরে বারিষাব ইউনিয়ন
আয়তন ৩৯.৮৫ বর্গ কিলোমিটার/৩০ বর্গ মাইল।
মোট লোক সংখ্যা -পুরুষঃ-৩১,০০০জন
মহিলা-২৯,১৩৯ জন
মোট ৬০১৩৯(২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী)
মোট ভোটার সংখ্যা২৬,০৮০(not sure)
মোট জন্ম নিবন্ধন সংখ্যা ৫৫৮৮০ জন।
মোট গ্রামের সংখ্যা ২৬
দর্শনীয় স্থানঃ
পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র-বারিষাব ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যস্থলে,পরিয়াব গ্রামে,প্রধান সড়কের সাথে অবস্থিত। উপজেলাঃ কাপাসিয়া,জেলাঃ গাজীপুর।
উল্লেখ্য 
**স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়াস উদ্দিন শহীদ হওয়ার পর তার সন্মানে তার নামানুসারে বরিরচালা নাম পরিবর্তন করে স্বাধীনতার পর পর গিয়াসপুর রাখা হয়।